শিবির সন্দেহে কাউকে হত্যা করা জায়েজ না (ভিডিও)
ফেসবুকে ভারত বিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়া বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন,‘একজন মানুষকে তার আদর্শিক পরিচয়ের কারনে মেরে ফেলা যায় না। সে যদি শিবির করে আর তা যদি ঘৃণ্য হয় তাহলে দেশে আইন আছে। আইন তার বিচার করবে। কিন্তু তা না, এখন আমাদের দেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি চলছে। কাউকে হত্যা করা ছাত্রলীগের কাজ হতে পারেনা। সে যে আদর্শেরই হোক না কেন নাস্তিক বা শিবির সন্দেহে কাওকে হত্যা করা জায়েজ না।’
সোমবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস দাবি করেন ‘বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়েছে’ ।
এসময় তিনি বলেন,‘দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে সাম্রজ্যবাদী ভারতের সাথে নতজানু চুক্তি দেশের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির পরিচয় দিয়েছে। আবার এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে মেধাবীদের নির্মম ভাবে গুম, খুন করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন কর্তৃক পরিচালিত এহেন হত্যাকান্ড প্রমান করে দেয় দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যায়। এই রাষ্ট্রীয় অনাচরের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে জেগে উঠতে হবে।’
জাহঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন,‘লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা এমন এক স্বাধীনতা আমরা পেলাম যেখানে মুক্ত চিন্তার কোন দাম নেই। আজ শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমার প্রশ্ন এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে? আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই যে সংগঠন এখনো রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় সে সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারেন না। প্রয়োজনে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে, বিচার বিভাগ বিচার করবে কিন্তু ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন কিসের দায়ে কাওকে অবৈধভাবে হত্যা করতে পারে।’
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কস বাদী) সভাপতি মাহথির মোহাম্মাদ বলেন,‘ আওয়ামী সরকারের অধীনে একটি ধর্ম তৈরি হয়েছে যার পীর শেখ মুজিব এবং খলিফা শেখ হাসিনা। যেখানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। ক্ষমতায় থাকার জন্য এই সরকার সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম বলেন,‘আবরার রাস্তা ঘাটে কোন বাইরের সন্ত্রাসীদের দ্বারা খুন হয়নি, বরং ক্যাম্পাসেই একদল ক্ষমতাসীন খুনীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো জাতির ভবিষ্যত মাথা অথচ এখানে খুন ও খুনী তৈরি করা হচ্ছে যা সম্পূর্ন অনাকাঙ্খিত।’
তিনি আরো বলেন,‘ভারত এমন একটি রাষ্ট্র যাদের নিজেদের রাজ্যেই স্বার্থের দেনা দরবারের কারনে কাবেরী নদীর পানিসঠিক ভাবে বন্টন করতে পারেনা। অথচ ওই রাষ্ট্রটিকে বিনা স্বার্থে ফেনী নদীর পানি দিয়ে এসেছে। আর একথা বলতেই আজ আবরার নির্মমভাবে খুন হলো। আমরা এর বিচার চাই’।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহীদ মিনার হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী, বাম ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা অংশগ্রহন করেন।
উল্লেখ্য বুয়েটের ওই শিক্ষার্থী ভারতকে গ্যাস ও পানি দেওয়ার বিরোধিতা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার আট ঘন্টার মাথায় নিজ হলে ছাত্রলীগ কর্তৃক নিহত হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে।