ভিসির দুর্নীতি নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রকাশ
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্যের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
ডকুমেন্টারিতে উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দোকার নাসিরউদ্দীনের পার্লার কেলেঙ্কারি, নারী কেলেঙ্কারি, ম্যুরাল দুর্নীতি, গোবর বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রমাণ সহ তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলমান রয়েছে তা প্রকাশ করতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েছে। আজকে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে টানা ৮ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ভিসি বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। এ সব তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সকল তথ্য প্রকাশ করতেই ডকুমেন্টারি করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিদর্শন ও ভিসির অনিয়ম তদন্ত করতে ইউজিসির তদন্ত দল ক্যাম্পাসে এসেছে। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। তাদেরকে আমাদের দাবি জানানো হয়েছে। একমাত্র ভিসির পদত্যাগই পারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে।
এদিকে চলমাম পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গঠিত ইউজিসির তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বিকেল চারটায় ইউজিসির তদন্ত কমিটির তিনজন সদস্য ড. মো. আলমগীর, মৌলি আজাদ এবং ড. সাজ্জাদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌছাঁন।
বিকাল থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, বিভিন্নসময় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী, হামলায় আহত শিক্ষার্থী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান মো. আলমগীর জানান, তারা আগামীকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে অবস্থান করবেন এবং চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি তিনি এটিও জানান, ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে।
পরবর্তীতে রাত ৯টায় তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগম এবং ড. কামাল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় পৌছান। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তদন্ত কমিটি আন্দোলনের কারণসহ তাদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে চেয়েছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করা যায় কিনা জানতে চেয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসকল প্রশ্নের জবাবে তাদের আন্দোলনের কারণসমূহ এবং সমস্যাগুলো জানিয়েছে পাশাপাশি এটিও জানিয়েছে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।