২৯ এপ্রিল ২০১৯, ২১:১২

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষির উন্নয়নে বায়োচার

  © টিডিসি ফটো

পরিবেশ বান্ধব শক্তি,কৃষি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বায়োচারের ভূমিকা শীর্ষক একটি সেমিনার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম-২ এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন সিসিডিবি’র সহ-সভাপতি ড. হ্যারোল্ড সৌগাতো ব্যারল। এছাড়া কৃষি অনুষদীয় বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও মৃত্তিকা এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম এর সঞ্চালনায় বায়োচারের উৎপাদন, ব্যবহার ও উপকারিতার ওপর প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন সিসিডিবি বায়োচার প্রকল্পের দলপতি জনাব মাহবুবুল ইসলাম। গবেষণা ফলাফলের ওপর তথ্য উপস্থাপন করেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাস্টার্সের প্রাক্তন ছাত্র মো.রায়হানুল হক ও মো.নাজমুল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু.আবুল কাসেম বলেন, বায়োচার একটি যুগোপযুগী গবেষণা। ক্রমাবর্ধমান রাসায়নি সার ও কীট নাশক ব্যবহারের ফলে যেভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে, তাতে করে মানব জীবন ও কৃষিজ ফসল উৎপাদন আজ হুমকির মুখে। এ কারণে বায়োচারের আইডিয়া আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এটি একদিকে যেমন পরিবেশ বান্ধব অন্যদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে জমির ফসল উৎপাদনের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে ।যা ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদা পূরণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করি ।

পরিবেশবান্ধব বায়োচার পদ্ধতির প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো শাহ মঈনুর রহমান বলেন,বায়োচার হচ্ছে এক ধরনের প্রভাবক। বায়োচার মাটিকে সংশোধন করে সারের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। মাটির পুষ্টি উপাদান ধরে রাখে ,মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। মাটিতে অবস্থানকারী ছোট ছোট অনুজীবগুলোকে সক্রিয় করে তোলে ও বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে, মাটির জৈব গুনাগুণ অক্ষুন্ন রাখে ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বায়োচার শতশত বছর ধরে মাটিতে কাজ করতে সক্ষম। ফলে রাসায়নিক সার কম লাগে। এতে করে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়। এটি ব্যবহারের করলে কোন কোন ক্ষেত্রে ফসল উৎপাদন দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

কৃষি বান্ধব চুলা বা আখা ব্যবহার করে পাইরোলাইসিস প্রক্রিয়ায় সকল প্রকার জৈব পদার্থকে পুড়িয়ে ধোয়ামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্নার পাশাপাশি বায়োচার উৎপাদন করা যায় ।

উল্লেখ্য, ক্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেপলোপমেন্ট অব বাংলাদেশ (সিসিডিবি) প্রকল্পের সাথে মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও কৃষি সম্প্রসারণের বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয় ।সেই প্রকল্পের অধীনে বিগত দুই বছর ধরে বায়োচার নিয়ে একত্রে কাজ করে আসছেন এই দুই বিভাগ।