শিক্ষক দিবস হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত ‘জোহা দিবস’: জাফর ইকবাল
শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহাকে স্মরণ করে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, একটা দিনকে যদি শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখতে হয়, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জোহা দিবসটিই সবচেয়ে উপযুক্ত। কাজেই দেশের সকল শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে এর থেকে তাৎপর্যপূর্ণ দিন আর হতে পারে না।
সোমবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জোহা দিবস’-এর ৫০ বছর উদযাপন ও ১৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণার দাবিতে শহিদ শামসুজ্জোহা স্মরণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ড. শামসুজ্জোহা ছিলেন মহান শিক্ষক। তিনি নিজের বুক আগলে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন। কাজেই শাবিপ্রবি’র মত দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা দাবি জানাতে পারে। এখানে তোমাদের যে দাবি জানিয়েছো তা কিন্তু সহজেই হয়ে যাবে না। এর জন্য অবশ্যই তোমাদের চেষ্টা করতে হবে। তোমরা ছাত্রছাত্রীরা যারা এর আয়োজন করেছ তাদের আমি অভিনন্দন জানাই।
এর আগে আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহা স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে একটি র্যালি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মরণ কমিটির আহ্বায়ক মো মইনুদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে ও ইউশা রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, সহকারী অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা, প্রভাষক আশিষ কুমার বণিক, শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ রুদ্র, সাধারণ সম্পাদক নাজিরুল আজম বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রদল শাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রুপেল চাকমা প্রমুখ।
বক্তারা শাবিপ্রবিতে ড. জোহার প্রতি সম্মানপূর্বক ‘জোহা স্মৃতি পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।