নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না শিক্ষকরা
প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং-প্রাইভেটের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। খসড়াটি চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। এরপর যাবে জাতীয় সংসদে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, কোচিং-প্রাইভেট একেবারে বন্ধ করা যাবে না। কারণ, কিছু শিক্ষার্থী থাকে অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে তুলনামূলক দুর্বল। আবার সব শিক্ষার্থীর মা-বাবার পক্ষেও পড়াশোনার বিষয়ে সন্তানকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে তারা কোচিং-প্রাইভেট পড়তেই পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক শিক্ষক ক্লাসে ঠিকমতো না পড়িয়ে তাঁদের কাছে শিক্ষার্থীদের কোচিং-প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন, যা অনৈতিক। এটিকেই তাঁরা বন্ধ করতে চান।
আরও পড়ুন: এক শিক্ষাবর্ষে গবেষণায় ১ টাকাও ব্যয় করেনি ১৭ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা আইনের খসড়ায় দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে পাঠদানের জন্য কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা বা কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে না। তবে কোচিং সেন্টারে কোনো শিক্ষক তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে পাঠদান করাতে পারবেন না। এমনকি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেটও পড়াতে পারবেন না। কোচিং চালাতে গেলে নিবন্ধন নিতে হবে।
তবে সরকার নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে ও অভিভাবকদের সম্মতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরের সময় অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা যাবে। অবশ্য এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশ রয়েছে। কিন্তু সেটি যথাযথভাবে মানা হয় না; বরং শিক্ষকদের প্রাইভেটের প্রতি ঝোঁক বেশি।