১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১২

বৈশাখী ভাতা তুলতে পারেননি শিক্ষক-কর্মচারীরা, ক্ষোভ

  © লোগো

দেরিতে অর্থ ছাড় দেয়ায় এবার নববর্ষের আগে বৈশাখী ভাতা তুলতে পারেননি শিক্ষক-কর্মচারীরা। রবিবার সারাদেশে বর্ষবরণের আয়োজন প্রায় সমাপ্ত কিন্তু তাদের বৈশাখের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল। এতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

জানা যায়, ব্যাংকে দেরিতে চেক জমা হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কারো পক্ষেই বৈশাখী ভাতা তোলা সম্ভব হয়নি বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ। দেশের বেশিরভাগ স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে। ফলে সরকারি ব্যাংকের বিভিন্ন জেলা শাখায় তারা ধরণা দিয়েও বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে টাকা তুলতে না পেরে ফিরে গেছেন।

উৎসবের আগে বৈশাখী ভাতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, আমাদের কোনো শিক্ষক-কর্মচারী বৈশাখী ভাতা তুলতে পারেননি। সকলে ব্যাংকে গিয়ে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের বৈশাখী ভাতা দেয়া হলেও উৎসবের আগে কেউ টাকা তুলতে পারেননি।

জানা গেছে, গত জাতীয় নির্বাচনের আগেই পহেলা বৈশাখ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের টাকা ছাড় করা হয়েছে গত ৯ এপ্রিল। আর এমপিওভুক্ত মাদরাসা ও কারিগিরি শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার টাকা ছাড় করা হয় ১০ এপ্রিল। বিলম্বের কারণেই মূলত ভাতা বা বোনাস বণ্টনকারী ব্যাংকগুলো তাদের জেলা পর্যায়ের শাখায় টাকা পাঠাতে পারেনি। ব্যাংক ম্যানেজারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিলম্বে চেক ছাড়ের কারণে, ভাতা বণ্টনকারী ব্যাংকের শাখায় টাকা পৌঁছেনি। তাই টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে বৈশাখী ভাতা প্রদান ও বণ্টন নিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। ফলে পহেলা বৈশাখের আগে মাদরাসা শিক্ষকরা বৈশাখী ভাতার সুবিধা ভোগ করতে পারলেন না। বৈশাখের আনন্দ তাদের অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, বৈশাখী ভাতার টাকা অনুমোদন হতে দেরি হয়। প্রথমবারের মতো এ ভাতা প্রদান করায় তা অনুমোদন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তাই জন্য অনুদানকারী ব্যাংকগুলোতে অর্থ পৌঁছেনি। তবে কিছু ব্যাংকে অর্থ পৌঁছে গেছে। অনেকে বৈশাখী ভাতা পেয়েছেন।

এমন পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মহাপরিচালক বলেন, এমপিওভুক্ত সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। তবে পহেলা বৈশাখের আগে কেউ কেউ ভাতা না পেলেও আগামী সোমবার এ অর্থ পেয়ে যাবেন। ভবিষ্যতে বৈশাখের আগেই শিক্ষকদের হাতে ভাতা পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ছিল পহেলা বৈশাখের আগে সর্বশেষ কার্যদিবস। আগামীকাল পহেলা বৈশাখ। এর আগে ব্যাংক থেকে বোনাস বা ভাতা উত্তোলনের আর কোনো সুযোগ পাবেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে কিছু কিছু জেলার এমপিওভুক্ত সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ভাতা তুলতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।