১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৮

ভাইয়ের সন্ধানে ভারতে বোন, ফিরলেন ৩৬ দিন পর

রোকসানা খাতুন ও তার ছেলে শাওন  © সংগৃহীত

ভারতে কাজের সন্ধানে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক ভাইকে উদ্ধার করতে যান তিনি।  কিন্তু ভাইকে উদ্ধার করার পরিবর্তে রোকসানা (৩০) নিজেই পড়েন আইনি জটিলতায়।  তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে ৩৬ দিন আটক থাকার পর ভারতের বাংলাদেশী উপ-হাই কমিশনের সহায়তায় অবশেষে দেশে ফেরার অনুমতি মিলেছে তার ও তার ছেলের।  শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশী উপ-হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও দূতালয়ের প্রধান বিএম জামাল হোসেন তাদের বাংলাদেশি সার্চ মানবাধিকার সংস্থার হাতে তুলে দেন।রোকাসানার বাড়ি যশোরের ফতেপুরে।  তিনি বিল্লাত আলীর স্ত্রী।  তার তিন বছরের ছেলের নাম শাওন ।

জানা যায়, দালা‌লের খপ্প‌রে প‌ড়ে ভালো কাজের প্রলোভনে রোকসানার ভাই ভারতে গিয়ে দিল্লীতে পুলিশের হাতে আটক হয়। এ খবর পেয়ে তিনি তার ভাইকে ছাড়াতে পাসপোর্টে দিল্লী যায়। এসময় অসতর্কতার কারণে ভারতে তিন মাসের অধিক সময় অবস্থানে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তিনি ভুলে যান। পরে দেশে ফেরার জন্য ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে আসলে তারা একসাথে ৯০ দিন অতিক্রম করার অপরাধে প্রতি পাসপোর্টে ২১ হাজার ৬৬০ রুপি জরিমানা পরিশোধ করতে বলেন। কিন্তু তার কাছে কোন অর্থ না থাকায় তাকে রাস্তায় রাস্তায় দিন  যাপন করতে হয়।  বিষয়ে বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনের নজরে আসে।  তারা রোকসানা ও ছেলের পাশে দাড়ায়।  ভারত সরকারকে দুই পাসপোর্টে ৪৩ হাজার ২০০ রুপি জরিমানা পরিশোধ করে মা ও ছেলেকে দেশে ফিরতে সহযোগিতা করে। রোকাসানা এ মানবিক কাজের জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সূত্র জানায়, ভারত সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী (মুসলিম সম্প্রদায়) যারা টুরিস্ট ভিসায় ভারতে গিয়ে একসাথে ৯০ দিনের বেশি অবস্থান করবে তাদের পাসপোর্ট প্রতি ভারত সরকারকে ২১ হাজার ৬০০ রুপি ও বাংলাদেশি সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের পাসপোর্ট যাত্রী প্রতি মাত্র ১শ রুপি জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের যাত্রীদের আর সংখ্যা লঘু যাত্রীদের ফাইনের মধ্যে এমন ব্যবধানের এই বৈষম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশি উপ-হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও দূতালয়ের প্রধান বিএম জামাল হোসেন জানান, এটা ভারত সরকারের পলিসি।