১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৯

স্কুল পরিদর্শনে ডিজিটাল ব্যবস্থার যাত্রা

স্কুল পরিদশনে ই-মনিটরিং ব্যবস্থার যাত্রা

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ব্যবস্থায় কাগজ-কলমের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি ই-মনিটরিং সিস্টেম চালু হল। সেভ দ্যা চিলড্রেনের শিক্ষা সেক্টরের সহায়তায় এ পদ্ধতির উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে এ ডিজিটাল ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সেভ দ্যা চিলড্রেনের শিক্ষা সেক্টরের পরিচালক বুশরা জুলফিকার। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কাগজবিহীন বিদ্যালয় পরিদর্শন ব্যবস্থা ই মনিটারিং যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। এতে করে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। তাই বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়াতে হবে। তাই প্রাথমিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা ব্যবস্থা প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ই প্রাইমারি স্কুল সিস্টেম বাস্তবায়নে ই মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগে কখনো ৪ পৃষ্ঠা কখনো ৮ পৃষ্ঠা প্রতিবেদন দেয়া লাগতো। এখন কর্মকর্তারা সহজেই পরিদর্শন তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেভ দ্যা চিলড্রেনের শিক্ষা সেক্টরের পরিচালক বুশরা জুলফিকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ই মনিটরিং ব্যবস্থা প্রণয়নে সহযোগিতা করায় সেভ দ্যা চিলড্রেন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ, সেভ দ্যা চিলড্রেনের পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার, আইসিটি ইন এডুকেশন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার রুকসানা হোসেনসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ই মনিটরিং সিস্টেম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এ পদ্ধতিতে কিভাবে বিদ্যালয় পরিদর্শনের বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হয় তা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়। এ সময় অতিথিরা বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ মজুমদারের সাথে ই মনিটরিং সিস্টেমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
 
ইতোমধ্যে সারাদেশে কাগজবিহীন স্কুল পরিদর্শন ব্যবস্থা ই-মনিটরিং বাস্তবায়নে ৩ হাজার ৭২০ টি ট্যাবলেট কিনেছে অধিদপ্তর। ই-মনিটরিং কাজে ব্যবহারের জন্য আক্টোবর-নভেম্বর মাসে দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সারাদেশে ই-মনিটরিং কার্যক্রম সম্প্রসারিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ ডিজিটাল পরিদর্শন ও তদারকি ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- সরেজমিনে স্কুল পরিদর্শন কার্যক্রমকে আরও সহজ এবং স্বচ্ছ করা। এর অধীনে ক্লাস কার্যক্রম তদারকি, শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর বাড়ি-ভিজিটসহ অন্যান্য দিক উঠে আসবে। প্রত্যেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউইও) তার দায়িত্বে থাকা স্কুলগুলোতে গিয়ে ১৭টি মূল দিকসহ অন্যান্য দিক দেখবেন। এরপর স্কুলে বসেই ৫ পৃষ্ঠার একটি তথ্য ফরম পূরণ করবেন অনলাইনে। তিনি তা ডিপিই’র কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করবেন। সঙ্গে সঙ্গে তা ডিপিই’র ওয়েবসাইটেও চলে আসবে।

এইউইওরা যে ১৭টি দিক দেখবেন তা হচ্ছে- কর্মরত ও অনুপস্থিত শিক্ষক, ছুটির ধরন, শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর বাড়ি-ভিজিট, শ্রেণী কার্যক্রম বা পাঠদান কেমন (৫টি দিক), ক্লাসে শিক্ষার্থীকে বোর্ডে অনুশীলন করানো হয় কিনা, পাঠদানে মানোন্নয়নে পরামর্শ। আরও আছে বার্ষিক সার্বিক পরিকল্পনা (৫টি), বিদ্যালয় কার্যক্রম কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতি (৮টি দিক), ব্যবস্থাপনা কমিটি (৮টি দিক), সমাপনী পরীক্ষা, বিদ্যালয়ে সহপাঠ কার্যক্রম (শারীরিক কসরত, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি, চারু ও কারুকলা ইত্যাদি), অভিভাবক সমাবেশ, স্কুলের পারিপার্শ্বিক দিক (৯টি), শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম সংক্রান্ত তথ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের মান ও আগের পরিদর্শনকারীর পরামর্শ। বিদ্যালয়ের তথ্য, পরিদর্শনকারীর তথ্য এবং পরিদর্শনকারীর মতে প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতাসহ সার্বিক মন্তব্য ও সুপারিশও থাকছে এই ডিজিটাল পরিদর্শন ব্যবস্থায়।