বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের সুপারিশ ইউজিসি’র
চলমান জাতীয় বেতন স্কেলের পরিবর্তে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের জন্য গত কয়েক বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউজিসি’র ‘৪৪তম বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৭’-এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের কাছে শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের এ সুপারিশ জানায় ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়াম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে এ প্রতিবেদন পেশ করেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক সুবিধাসহ অন্যান্য চাহিদা পূরণের সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর পদগুলোতে স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা যেন অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানে আগ্রহী হন, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে’।
ইউজিসি’র কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর। আর তাদের যত বেশি প্রণোদনা দেওয়া হবে, গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, মেধাবীরা তত বেশি শিক্ষকতা পেশায় আসবেন। ফলে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে এই সুপারিশটি করেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত। দীর্ঘদিন ধরে আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছি। আর তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র্রপতিকে এই সুপারিশ দেওয়া হয়েছে’।
জানা যায়, ২০১৫ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পদমর্যাদা অবনমন করার অভিযোগ উঠলে প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসময় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা ও প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করার দাবি জানান তারা। এ নিয়ে টানা প্রায় পাঁচ মাস আন্দোলন করেন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষকদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষার্থীরাও। এই প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বিলোপের পর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এই গেজেটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান-মর্যাদা ও স্বার্থরক্ষা হয়েছে উল্লেখ করে আন্দোলন থেকে সরে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।