গবেষণা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
উচ্চ শিক্ষার মান বৃদ্ধিকল্পে এবং দেশীয় গবেষণা খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণা কার্যক্রমে আরো গুরুত্ব দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন আয়োজিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলন-২০১৮’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আমরা শিক্ষকদের সব দাবি দাওয়া মেনে নিয়েছি। শিক্ষকরা কীভাবে ভালো থাকবেন তাদের সে সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছি। তাদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার জন্য যা যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাই প্রথম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা শুরু করি। আমরা এর সুফলও দ্রুত পেয়েছি। লবণাক্ত, জলমগ্ন, খরা সহ্য করতে পারে এমন ধান আবিষ্কার করার ফলেই আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও বেশি করে গবেষণার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, আমরা গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছি বলেই ধান উৎপাদন, শাক-সবজি উৎপাদন, মাছ উৎপাদন, ফলমূল উৎপাদনে উন্নত বিশ্বের কাতারে রয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে ঠেকে না থাকে সে কারণে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায়ও আমরা বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। ১ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে প্রাথমিকে বৃত্তি দিচ্ছি। শিক্ষাবৃত্তির টাকা যাতে বেহাত না হতে পারে সেজন্য শিক্ষার্থীর মায়েদের মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। পাহাড়ি ও হাওর অঞ্চলের শিশুদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থাও আমরা করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘জাতির প্রতিটি অর্জনে, আন্দোলন সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। অবশ্যই আমি গর্ববোধ করি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম। ওয়ান ইলেভেনে যখন আমাকে গ্রেফতার করা হল, তখন এই ইমার্জেন্সির বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সাংসদ, সচিব, উপাচার্য, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।