শিক্ষা প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক নিয়োগ-পদোন্নতি
শিক্ষা প্রশাসনের অধীনে অাটকে থাকা সব নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রদানের কাজ শেষ করার আদেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই প্রেক্ষিতে পদ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা ক্যাডারে সহযোগী অধ্যাপক থেকে ৪০৯জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে রেকর্ড সংখ্যক পদোন্নতি প্রদানের এই খবর জানা গেছে।
এছাড়া সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে এবং প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে বিরাট সংখ্যক ক্যাডারকে পদোন্নতি প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। এ উপলক্ষে আগামী ১৪ই অক্টোবর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা ডাকা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির প্রতি জোর নজর দিচ্ছে সরকার। সরকারি বেসরকারী সব পর্যায়ে এই নিয়োগ-পদোন্নতির হিড়িক চলছে। এরই মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়েনিয়োগের ২৭ বছর পর ৩৭১ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং ৫২ জন সহকারী মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে ওই শিক্ষকরা নবম গ্রেডে অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত হলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, যোগ্যতা অর্জন করার কারণেই অধ্যাপক পদে এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালেই তাদের পদোন্নতি হবার কথা ছিল। নানা জটিলতার কারনে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পদোন্নতিতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।
এছাড়া সারা দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ১৩৭৮ জন শিক্ষক। প্রথমবারের মতো পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে এ নিয়োগ দেয়ার জন্য গত ৯ই সেপ্টেম্বর পিএসসি এ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে ৮ই অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন চলে। শিগগিরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে পিএসসি জানিয়েছে। তারা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় নিয়োগ পাবেন। এদের মধ্যে বাংলায় ৩৬৫ জন, ইংরেজিতে ১০৬ জন, গণিতে ২০৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞানে ৮৩ জন, ভৌতবিজ্ঞানে ১০ জন, জীববিজ্ঞানে ১১৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ৮ জন, ভূগোলে ৫৪ জন, চারুকলায় ৯২ জন, শারীরিক শিক্ষায় ৯৩ জন, ধর্মে ১৭২ জন এবং কৃষি শিক্ষায় ৭২ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা) ৩৮ হাজার ৮০০টি শিক্ষকের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়োগ নির্বাচনের আগে শেষ করতে চায় সরকার। এজন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যাচাই বাছাই করে সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সরকারি হাইস্কুলের ৫৫০০ হাজার সহকারী শিক্ষককে ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। সরকারি হাইস্কুল শিক্ষকদের নতুন চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকের মোট পদের অর্ধেককে নতুন এ পদে পদোন্নতি দিতে কার্যক্রম শুরু করেছে মাউশি। সহকারী শিক্ষক থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের প্রমার্জন করে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আর পদোন্নতি তালিকায় আছে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকরা। তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাবে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে। এর ফলে শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পাবেন। শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), সরকারি আলীয়া মাদরাসাসহ সারা দেশে ৩২৭টি পুরাতন সরকারি কলেজসহ সদ্য সরকারি হওয়া ২৯০টি কলেজ সরকারি কলেজে শারীরিক শিক্ষকদের পদ সংখ্যা ৬০৭টি। দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীত হলে নতুন সরকারি কলেজে পদ সৃজন হলে সেসব কলেজের শিক্ষকরাও সমমর্যাদা পাবেন।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ ছিল। এ জট খোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে নির্বাচন কোনো বিষয় না। তিনি বলেন, এসব শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। শুধু যে গণহারে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে তাই না, তাদের এসিআর (বার্ষিক গোপন প্রতিবেদন) যাচাই-বাছাই করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করেই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে।