৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৫৫

সোশ্যাল মিডিয়ার কর নিশ্চিত করতে তৎপর এনবিআর

  © ফাইল ফটো

ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকে কর নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাংলাদেশে ডিজিটাল এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে কার্যালয় স্থাপন ও লেনদেনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। 

ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইয়াহু, অ্যামাজন ইমোসহ ডিজিটাল মাধ্যমগুলো প্রতিবছর দেশ থেকে  ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাবদ শত শত কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বাবদ বাংলাদেশ সরকার কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স পাচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কর প্রাপ্তির ইস্যুতে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কাজ শুরু করেছে এনবিআর। 

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কর প্রাপ্তির ইস্যুতে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর বলছে, বাংলাদেশে ডিজিটাল এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে কার্যালয় স্থাপন ও লেনদেনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত করতে চাই।

ইতোমধ্যে এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) শাহনাজ পারভীনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ হচ্ছে গত  গত পাঁচ বছরে কী পরিমাণ অর্থ এসব সামাজিক মাধ্যমে দেশের বাইরে গেছে তা খতিয়ে দেখা। কমিটিতে এনবিআরের কর ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এদিকে কর ফাঁকির অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল গুগল, ইউটিউব, ফেসবুকসহ অন্যান্য ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরসহ ছয় আইনজীবী।

রিটকারী আইনজীবীরা জানান, রিটে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআরের চেয়ারম্যান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু এবং ইউটিউবকে কর্তৃপক্ষ বিবাদী করা হয়।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির জানান, ২০০৭ সাল থেকে গুগল, ফেসবুক, আমাজন, ইয়াহু এবং ইউটিউবের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ থেকে যথেষ্ট পরিমাণের অর্থ উপার্জন করলেও তাদের সেই আয়ের বিপরীতে কোনো কর দেয়া হচ্ছে না।

এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে যথেষ্ট পরিমাণের অর্থ উপার্জন করলেও প্রতিষ্ঠানগুলো কর দেয় কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগে গুগল, ফেসবুক এখন প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেখতে আগ্রহী। দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এ সুযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এ দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কিন্তু সরকারকে এক টাকাও রাজস্ব দিচ্ছে না তারা। ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতি বছর কত টাকা বিজ্ঞাপন বাবদ বিদেশে পাচার হচ্ছে তার সঠিক কোনো হিসাব সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই।

কারণ বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের অর্থ পরিশোধ করছে ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য অনলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এর আগে আমরা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম।