করোনা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাও
করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সরকার ও কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে নিজেরােই ক্লাজ বর্জন করেছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক এজেএম শফিউল আলম ভূইয়া আজ সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, এখনই অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা প্রয়োজন।
শিক্ষকদের অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রয়োজনে গ্রীস্মকালীন ছুটি এগিয়ে নিয়ে এসে কয়েক সপ্তাহের জন্য হলেও বন্ধ করা হোক দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এমন মত দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। গতকাল রাতে দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “বৈশ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের গ্রীষ্মকালীন ছুটি জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আনা দরকার এবং তা এখনই; মহাসর্বনাশের পূর্বেই। এইসব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি, অনেক বেশি ।”
একই দাবি তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন শুক্রবার ফেসবুকে লিখেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে জুনের গ্রীষ্মকালীন ছুটি আগাম দেয়ার কথা ভাবা যায়।”
এদিকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ক্যাম্পাস বন্ধের দাবিতে অনশনে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। শনিবার রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে অনশন শুরু করেন তারা।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা না পেলেও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বুয়্টে ও ঢাকা মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা। ক্লাসে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয়ের কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক জানিয়েছেন বাংলাদেশে আরো দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তেদের মধ্যে একজন ইতালি থেকে এবং একজন জার্মান থেকে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। এর আগে গত ৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে তিনজন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এ নিয়ে দেশে ৫ জন করোনাভাইরাস আক্রন্ত রোগী শনাক্ত হলো।