১৪ মার্চ ২০২০, ১৪:৫৮

দু-তিন দিনে নাকি করোনা রোগী সুস্থ!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে একাধিক বাংলাদেশি সুস্থ হওয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এর আগে করোনা নিয়ে সচেতনার সৃষ্টি লক্ষ্যে আরেকটি পোস্ট দেন তিনি।

শনিবারের স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লিখেন, ‘মাত্র দু-তিন দিনে নাকি করোনা রোগী সুস্থ করে ফেলেছে বাংলাদেশ! নোবেল পুরস্কার সুনিশ্চিত এবার!’

এর আগে করোনা সচেতনতামূলক নিয়ে লিখেন, ‘‘মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, জানুন। আমি একটু আগে পলাশী বাজার গিয়ে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য দোকানদারদের মাথা খারাপ করে ফেলছে লোকজন। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা। প্লিজ সবাইকে বলেন, মাস্ক আসলে দরকার নেই। শুধু আপনার নিজের জ্বর আর কাশি হলে (করোনার প্রথম লক্ষণ) মাস্ক পরবেন, সেটিও অন্যরা যাতে সংক্রামিত না হয় সে জন্য।

হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দরকার নেই। যে কোনো সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুলেই হবে। হাত ধোবেন কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড। আর মুখে কোনোভাবেই হাত লাগাবেন না। শুধু এ দুটো কাজ করলে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে।

সাবান কি হাতে নিয়ে ঘুরবেন? দরকার হলে তা করবেন। ব্যাগে, পকেটে কোনো কৌটায় সাবানের টুকরো রাখুন। ময়লা নোট বা বহুলভাবে স্পর্শ হয় (যেমন সিঁড়ির রেলিং, রিকশার হুড, বাসের হ্যান্ডেল) এমন কিছু ধরার পর হাত সাবান দিয়ে না ধোয়া পর্যন্ত কোনোভাবে মুখে হাত স্পর্শ করবেন না। চুলকালে প্রয়োজনে হাতের বাহু বা অন্য কিছু ব্যবহার করুন।

করোনার প্রাথমিক লক্ষণ সর্দিজ্বর বা যে কোনো ধরনের ফ্লুর মতো। প্রায় সাত দিন পর থেকে শুরু হবে শ্বাসকষ্ট। করোনার শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালের আইসিইউতে যেতে হবে কষ্ট লাঘবের জন্য। করোনার কোনো চিকিৎসা নেই। ৯৮ শতাংশ রোগী এমনিতে ভালো হয়ে যায়।

করোনা নিয়ে তরুণরা বেশি টেনশন করবেন না। ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট ধরনের রোগ না থাকলে ৩০ বছরের নিচে করোনা হলে মৃত্যুর হার প্রায় শূন্য শতাংশ। কিন্তু আক্রান্ত হলে ভোগান্তি ও ভীতি বাড়ে এবং অন্যরা সংক্রামিত হতে পারে। তাই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কোনোভাবে নেবেন না।

এ দেশে সরকার কী করে বা কী করতে পারে আপনারা সবাই জানেন। কাজেই নিজের ভালো নিজে বুঝে নিন। নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।

সতর্ক হোন, আতঙ্কিত নয়।’’