করোনাভাইরাস: বেশি ঝুঁকিতে গণরুমের শিক্ষার্থীরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে নবীন শিক্ষার্থীদের থাকা-পড়ার তো দূরের কথা, ঘুমানোর জায়গাটুকুও হয় না। ৮ জনের রুমে সারিবদ্ধভাবে ঘুমাতে হয় অন্তত ২৫ থেকে ৪০ জনকে। অনেকে আবার বাধ্য হয়েই রাত কাটায় হলের বারান্দা, টিভিরুম কিংবা মসজিদে।
সারা বিশ্বে মাহামারি ধারণ করা নভেল করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে বাংলাদেশেও তিনজন শনাক্ত হয়েছে। এরপর থেকেই সারা দেশের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা আতঙ্ক। আবাসিক হলগুলোর গণরুমে নবীন শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অনেকের অবস্থান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গণজমায়েত নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাথীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ মুহূর্তে করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বনের মাধ্যমে জীবানুমুক্ত থাকা। কেননা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সতর্কতাই সংক্রামক ব্যাধি করোনাসহ সব ধরনের জীবানুবাহী রোগ-ব্যাধি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বড় একটি চ্যালেঞ্জ; তাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাদেরকেই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী মিলে এক টয়লেট ব্যবহারও এই আতঙ্কের অন্যতম কারণ।
তবে এতকিছুর পরও করোনা প্রতিরোধে সচেতনমূলক বিজ্ঞপ্তি ছাড়া প্রশাসনের ভিন্ন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলা, করমর্দন ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
শিক্ষার্থীরা জানান, জনসমাগম এড়াতে বলা হলেও একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হচ্ছে ও হলে থাকতে হচ্ছে। আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি গণরুমে প্রায় ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে থাকছে। এছাড়াও প্রতিদিন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী সমবেত হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করতে করমর্দন করছে। মহামারী আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে তারা।
তাদের মতে, দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। যদি ক্যাম্পাসে করোনা হানা দেয় তাহলে তা বিশাল আকার ধারণ করতে পারে। তবে, যদি এ বিষয়ে প্রশাসন পরে সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে প্রাণ নাশের আশঙ্কা থাকবে। তবে, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের ছাত্র একেএম সালমান রহমান বলেন, ‘সারাবিশ্ব করোনা আতঙ্কে বিরাজমান। তার থেকে বাদ যায়নি আমাদের দেশেও। আমাদের দেশে ইতিমধ্যে তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যে করোনায় আক্রান্ত হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে। তাছাড়া আমাদের ক্যাম্পাসের যে অবস্থা। একজন করোনায় আক্রান্ত হলে সাথে সাথে দ্রুততার সাথে তা ছড়িয়ে যাবে। যার কারণে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত উল্লাহ বলেন, করোনা সারাবিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। তার জন্য আমরাও আতঙ্কগ্রস্থ। আমরা এ জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কিছু হওয়ার আগে আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, যেহেতু এখনো পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। তাই শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হল ও ডিপার্টমেন্টগুলোতে সচেতন বার্তা পাঠিয়েছি।
গণরুমের শিক্ষার্থীরা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু একরুমে অনেক শিক্ষার্থী থাকে তাই তারা একটু ঝুঁকিতে থাকবে। যদি একজন আক্রান্ত হয় তাহলে অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে।
তবে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, আতঙ্কগ্রস্থ হওয়া যাবেনা। তবে, সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন শিষ্টাচার অনুসরণ করতে হবে। অমানবিক হওয়া যাবেনা।