১১ মার্চ ২০২০, ০৯:৩১

ডাকসুর একবছর: পাওয়া না-পাওয়ার খতিয়ান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ বুধবার (১১ মার্চ)। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যর্থতাও। তবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

যদিও গেস্টরুম, গণরুমের মতো কিছু বিষয়ে সামনে বেশি দূর যেতে পারেনি ডাকসু। তবে এখানে পরিবর্তন আনতে ইতিবাচক মনোভাব ডাকসু নেতাদের। ডাকসু জিএস ও ছাত্রলীগের পদচ্যত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মনে করেন, গেস্টরুমে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের ‘গেট-টুগেদার’ হয়।

ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনও ‘গেস্টরুমকে’; দেখেন জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের ‘মিথস্ক্রিয়ার’ একটি জায়গা হিসেবে। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নেতিবাচক রাজনীতি চর্চার অংশ হিসেবে কেউ কেউ এর ‘অপব্যবহার’ করে থাকে। সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের গেস্টরুম ধারণায় পরিবর্তন আনতে পারেনি ডাকসু।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছে। তবে কাজ করতে গিয়ে আমি ছাত্রলীগ প্যানেলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাধার মুখে পড়েছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা প্রশাসনের সদিচ্ছা না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্যের কারণে সমাধান করা যায়নি। এরপরও নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ধীরে ধীরে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।’

ডাকসুর সাফল্যের খতিয়ানে রয়েছে বেশ কিছু কর্মকান্ড। ডাকসুর বর্তমান কমিটির প্রথম দৃশ্যমান কাজ স্মার্টফোনভিত্তিক বাইসাইকেল সেবা জো-বাইক। ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদকের উদ্যোগে গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে জো-বাইক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।

স্যানিটারি ন্যাপকিন ডেন্ডিং মেশিন: গত ৪ ডিসেম্বর ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদারের উদ্যোগে ও এসিআই কনজ্যুমার ব্রান্ডের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের পাঁচটি হলসহ কয়েকটি স্থানে বসানো হয়েছে স্যানিটারি ন্যাপটিন ভেন্ডিং মেশিন। সেখান থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।

সান্ধ্যকোর্স পরিচালনার নীতিমালা: ডাকসুর অবস্থানের কারণে সান্ধ্যকোর্সের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে এগুলো পরিচালনার নীতিমালা তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে নীতিমালা প্রণয়নের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া ডাকসুর সাফল্যের মধ্যে আরও রয়েছে বিভিন্ন বিভাগের অযৌক্তিক উন্নয়ন ফি কমানো, পরীক্ষার ফলাফলের র্দীঘসূত্রতা হ্রাস, ছাত্রীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ানো, গ্রন্থাগারের সময়সীমা বাড়ানো, মেয়েদের বাইসাইকেল চালানো শেখানো এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ট্রিপ ও রুটের সংখ্যা বাড়ানো।

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড: ডাকসুর উদ্যোগে বছরব্যাপী আয়োজন হয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতি আয়োজন। সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদারেরি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘ট্যালেন্ট হান্ট’, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির প্রথমবারের মতো আয়োজন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলা। এছাড়া একাধিক সাহিত্য পত্রিকাও প্রকাশ করেন।

ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আমমেদ আয়োজন করেছেন- ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, সাঁতারসহ বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসেও সরব ছিল ডাকসু।

ডাকসু ও হল সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ মার্চ। পরবতী নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না কেউই। উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বক্তব্য, ডাকসু নির্বাচন অনেক কর্মযজ্ঞ, এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে দেখতে হবে। তবে শিক্ষার্থীরা চান ডাকসু নিয়মিত হোক।