০১ মার্চ ২০২০, ১১:৫৭

আমি মুহিউদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার : মাহাথির

রাজনীতির খেলায় বড় পরাজয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা. মাহাথির মোহাম্মদের। নিজ দলের কাছের মানুষের কাছেই তিনি জটিল খেলায় হেরে গেলেন। মালয়েশিয়ার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, তিনি আজ শপথ নিতে যাওয়া অষ্টম প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার।

মুহিউদ্দীনের শপথের আগেই আজ সকালে ইয়াইয়াসান আল বুখারিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মাহাথির। সেখানে তিনি মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মাহাথির বলেছেন, আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। বিশেষ করে মুহিউদ্দীনের পক্ষ থেকে এটি বেশি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির আরও বলেন, মুহিউদ্দীন ইয়াসিন দীর্ঘদিন তার এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলেন। এখন তিনি সেই বিশ্বাসঘাতকতায় সফল হয়েছেন।

পাকাতান হারাপান জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে পাকাতান জোট পার্লামেন্টারি অধিবেশন ডাকবে। আমরা দেখব (এমপিদের পক্ষ থেকে) কার কত সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন আছে। এখন থেকে বিরোধী অবস্থানে যাবে পাকাতান জোট।

পার্তি প্রিবুমি বারসাতু মালয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মাহাথির বলেন, এটি এখন নির্ভর করে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর। তারা আমাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার করবে নাকি রাখবে সে সিদ্ধান্ত দল নেবে। বারসাতুর সংখ্যাগরিষ্ঠরা আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে কিছু একটা তো হতে যাচ্ছে। তারা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে বহিষ্কার করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করা নিয়ে তিনি অনুশোচনা বোধ করেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে মাহাথির বলেন, তার সামনে এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি বলেন, আমি দেখেছি– উমনো এন-ব্লককে নিয়ে বারসাতু জোট গঠন করতে যাচ্ছে। তখন (পদত্যাগ করা ছাড়া) আমার সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এর অর্থ হলো– যাদের বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি, তাদের মেনে নিতে হবে। এটি করতে আমি প্রস্তুত নই। তাই মুহিউদ্দীন এটি করতে প্রস্তুত ছিলেন।

মাহাথিরের সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মুহিউদ্দীন ইয়াসিন। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মুহিউদ্দীনের নাম এর আগেই ঘোষণা করেছিল মাহাথিরের দল মালয়েশিয়ার ইউনাইটেড আদিবাসী পার্টি (বারসাতু)।

নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই মাহাথির আচমকা পদত্যাগ করেন বলে জল্পনা-কল্পনা চলছিল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। তার পদত্যাগের পর ৭৩ বছর বয়সী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে তার দলের জোটে ভাঙন ধরে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নাজিব রাজাককে হারিয়ে এ জোট বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।
সূত্র: অনলাইন দ্য স্টার।