২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৪৯

ঢাবি শিক্ষার্থীদের হামলায় মামলা করবে বিএসএমএমইউ

  © টিডিসি ফটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের টিকিট কাটতে গিয়ে দায়িত্বরত আনসারদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। তাছাড়া এ্যাম্বুলেন্সসহ ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করছে ঢাবির শিক্ষার্থীরা। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ঢাবির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। শনিবার বিএসএমএমইউ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকেট কাটা নিয়ে কথাকাটাটির মতো তুচ্ছ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, আনসার, ড্রাইভার-কর্মচারীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এসময় হামলাকারীরা লাঠি, সোটা নিয়ে বিএসএমএমইউ’র ১টি এ্যাম্বুলেন্স, ১টি বাসসহ কমপক্ষে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এসময় রোগী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করে।

হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের প্রধান ফটকের কাচের দরজা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলেছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় বিএসএমএমইউ’র পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াস, সাব্বির, নাঈম ইসলাম, সাগর শাহরিয়ার নিয়ম বহির্ভূতভাবে টিকেট চাওয়া নিয়ে পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোঃ খালিদ হোসেনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় বিএসএমএমইউ’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন ওই চার শিক্ষার্থীকে পরিচালকের (হাসপাতাল) কক্ষে নিয়ে যান। পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বিষয়টির সমাধান করে দেন। কিন্তু তার কক্ষ থেকে বের হয়ে ওই চার শিক্ষার্থী সি ব্লকের সামনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনকে মারধর করে আহত করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যরত আনসার সদস্যসহ অন্যান্যরা এগিয়ে যান এবং ওই চার শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরিচালক হাসপাতালের কক্ষে নিয়ে যান।

এ ঘটনার খবর বিএসএমএমইউ এর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ঢাবির ২ জন সহকারী প্রক্টর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দীন হল সংসদের ভিপি মোঃ ফরাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) অফিসে আসেন এবং এই ঘটনার খবর শাহবাগ থানার পুলিশ প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়।

পরবর্তীতে শাহবাগ থানা পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিএসএমএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, সহকারী প্রক্টর কে এম তারিকুল ইসলামসহ ঢাবি কর্তৃপক্ষ উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিষয়টি সমাধানের লক্ষে আলোচনায় বসেন। কিন্তু আলোচনারত অবস্থায় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে কবি জসিমউদ্দিন হলসহ ঢাবির ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী স্বশস্ত্র অবস্থায় বিএসএমএমইউ’র ১ ও ২নং গেট দিয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, আনসার সদস্য, ড্রাইভার ও কর্মচারীসহ কমপক্ষে ২০ জনকে পিটিয়ে আহত করে।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চার শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাঁদের থানা হেফাজতে নিয়ে যান। ঢাবি শিক্ষার্থীদের হমলায় আহতরা বর্তমানে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, পরিবহন সুপারভাইজার সুরুজ, আনসার সদস্য মোঃ মনজুরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ জুবায়ের হোসেন, মোঃ টিপু সুলতান, মোঃ শামীম হোসেন, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইদ্রিস, রুবেল, জামাল, ইসমাইল, আজাদ, জামাল-২, উজ্জ্বল, জনি, আল আমিন, চয়ন বিশ্বাস, মাসুদ সিকদার প্রমুখ।

এদিকে, ঘটনার পর ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, এসব ঘটনা আসলে খুবই দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের শিক্ষার্থীরা কেনইবা আনসারদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। ঘটনা শোনার পরপরই আমি মোবাইল টিম, প্রক্টরিয়াল বডিকে সেখানে পাঠিয়েছি। তাদের সাথে পুলিশও ছিল। মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সাথে আমার কথা হয়েছে, পাশাপাশি আমাদের ঊর্ধ্বতনদেরও জানিয়েছি।