ঢাবিতে তিন শাসকের ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাহারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
বাঙালি জাতির ইতিহাসে পাকিস্তান আমলের কুখ্যাত তিন শাসক খাজা নাজিমুদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা এবং মুহাম্মদ আইয়ুব খানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রত্যাহারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেছে ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রত্যাহার আন্দোলন পরিষদ’।
গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনের পর বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ হারুনুর রশিদ, সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান নমিতা মন্ডল, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ডঃ সাখাওয়াত আনসারী এবং সংস্কৃতি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর প্রমথ মিস্ত্রিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ভাষা আন্দোলনের ৪৮ এবং ৫২ এর দুইপর্বে খাজা নাজিমুদ্দিনের ভূমিকা ছিল বাংলার বিরুদ্ধে এবং বাঙালি বিরোধী। যখন বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা, আদালতের ভাষা এবং শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব পেশ করা হয় তখনি আইনসভার সদস্যগণ কর্তৃক সমর্থনের পর তা গৃহীত হয়। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্ব প্রাচীন এবং অন্যতম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত মোট ৫২ জনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। যাদেরকে ডিগ্রী প্রদান করা হয়েছে ধরে নিতে হবে যে তারা রাষ্ট্র ও সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার যে প্রস্তাব এবং চুক্তি হয়েছিল তা নাজিমুদ্দিন উত্থাপন করেননি। সংগ্রাম পরিষদ এ ব্যাপারে তার কাছে কৈফিয়ত দাবি করলে তিনি বলেছিলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এভাবে তিনি বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বাঙ্গালীদের সাথে।
অন্যদিকে ইস্কান্দার মির্জার ছিলেন অগণতান্ত্রিক, সংবিধানবিরোধী এবং স্বার্থনূকুল। তিনি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারকে বরখাস্ত করেন। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সকল রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেন। সামরিক আইন জারি করেন। তিনি সংবিধান বাতিল করলেও সংবিধান তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধান বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো ক্ষমতা দেয়নি।
আরেকদিকে আইয়ুব খান ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালিপ্সু। তিনি প্রথম বিডি মেম্বারদের মাধ্যমে হ্যা/না পদ্ধতির প্রয়োগে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছাড়াই ১৯৬০ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র আন্দোলন দমনে তিনি প্রথম এনএসএফ নামের পেটুয়া বাহিনী তৈরি করেন। তার দাম্ভিকতার পরিণতিতে ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিহিংসার চরিতার্থ কল্পে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু সহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা করেন।
পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে তারা বলেন, আমরা ২৩ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে কোন পদক্ষেপ না নিলে আমরা ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারো রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।