০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫১

ধর্ষণে অভিযুক্ত একজন

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় একজনই জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। জায়গাটা নির্জন হওয়ায় এ ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে অপরাধী। সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ্ত কুমার চক্রবর্তী।

আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অভিযুক্ত একজন। আমরা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্তের চেষ্টা করছি। তবে এই ধরনের ঘটনার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধীকে খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

এদিকে ঘটনার পর সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি। আলামত হিসেবে পাওয়া গেছে- ভিকটিমের বস্ত্র, একটি ঘড়ি, দুটি ইনহেলার, একজোড়া জুতা, বই। এসব আলামত পরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে বলে জানান ডিসি সুদীপ্ত কুমার।

ফরেনসিকে ধর্ষণ: এদিকে ফরেনসিক পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন। সোহেল মাহমুদ বলেন, ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তাঁর গলায় আঙুলের দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। হাতে পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সারা পায়ে খোঁচা লাগার দাগ রয়েছে। ঝোপের মধ্যে ধর্ষণের কারণে এ দাগ হতে পারে।

গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী। কুর্মিটোলা বাস স্টেশনে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে মাঝপথে তাকে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। 

ধর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাত একজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন ওই ছাত্রীর বাবা। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহান হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানও ওই ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে তার চিকিৎসাসহ আইনানুগ সব ধরনের সহায়তা প্রদানে ঢাবি কর্তৃপক্ষ পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেন। তিনি দোষীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তিরও দাবি জানান।

এদিকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যেহেতু এই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে তাই অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।