২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৬

হামলা, মামলা ও চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন 

  © টিডিসি ফটো

ডাকসু ভবনে ভিপি নুর ও সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা ও চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন চলছে।

আজ রোববার বেলা ১ টার দিকে  ঢাবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে  আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, রাশেদ খান সহ সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ সাধারন শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিনিয়ামিন বলেন, আমাদের সাথে যে অন্যায় অবিচার করা হয়েছে , মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে আমরা সেই অন্যায় অবিচার বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠিয়েছি। সে উদ্দেশ্যেই আজকে আমাদের এই সংবাদ সম্মেলন।

হামলায় আহত হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বলেন, হাসপাতাল এখন আমাদের আট জন আহত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরি চলছে। প্রথমদিকে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন এখনে যারা রয়েছে তাদের অবস্থা তেমন সংকটাপন্ন নয়। তিন চার দিনের মধ্যে তারা রিলিজ হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখেছি সোহেলীকে হঠাৎ করে সন্ধ্যাবেলা বের করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার সিটি স্ক্যান করে জানানো হয় তার মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে। তার মাথায় যে রক্ত জমাট রয়েছে সে রক্ত যদি সার্জারি করে না বের করা হয় তাহলে সে কথা বলতে বলতে যে কোন সময় মারা যাবে। পরবর্তীতে তার মাথার সার্জারি করে সেখান থেকে তার মাথার জমাট বাধা রক্ত বের করা হয়।

এছাড়াও গতকালকে হঠাৎ করে আমাদের জানানো হয়, তার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে গেছে। তাকে অন্তত দুই মাস বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে। তার মাথার চিকিৎসা একটি পর্যায়ে গেলে তার মেরুদন্ডের চিকিৎসা শুরু হবে। এত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বিষয়টা নিয়ে আমরা খুব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যতীত। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তিত। ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কেন আমাদের বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো কথা বলছেন না রোগীদের আসলে কি কি ধরনের সমস্যা রয়েছে।

গতকাল আরিফুর রহমান সম্পর্কে জানানো হয়েছে তার কিডনি ৭০% ড্যামেজ হয়ে গেছে। গতকালকে তার ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। ডায়ালাইসিস এর মাধ্যমে যদি সেড়ে না উঠে তাহলে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা লাগতে পারে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। মেহেদী হাসানের কিডনি ৩০% ডেমেজ হয়ে গেছে। তাকে গত কালকে ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। ভিপির ছোট ভাই আমিনুল যার মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগেছে। তিনি এখন হাসপাতালে একটু পর পর আবোল তাবোল কথা বলছেন। তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

আমরা দেশবাসীর কাছে জানাতে চাই, আমাদের যারা আহত হয়েছে তাদের নিয়ে কর্তৃপক্ষের ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে। আমরা সুস্পষ্টভাবে লক্ষ করেছি ঢাকা মেডিকেলের পরিচালকের বক্তব্য আর আমাদের সহকর্মীদের কথার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমাদের বলেন, তোমরা যারা নিরাপত্তাহীনতায় আছো। তোমরা তোমাদের ইনফরমেশন দাও আমরা তোমাদের সাহায্য করবো। সে কথা বলে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমাদের কাছ থেকে সব ইনফরমেশন নিয়ে নিয়েছে। পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই, ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে আমাদের গ্রেফতার করা হয়। ঠিক একই কায়দায় আমরা দেখেছি গত ক'দিন আগে আমাদের ২৯ জনের নামে ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ মামলা থেকে সুস্পষ্টভাবে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই, গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা আমাদের ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছেন এবং সেখানে গিয়ে আমাদেরকে বলেছেন তোমাদের কারা কারা এখানে আহত হয়েছে তোমরা তোমাদের ইনফরমেশন দাও। তখন তারা সেখান থেকে আমাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। তার পরপরেই আমরা দেখতে পেয়েছি সেই তথ্য দিয়ে আমাদের 29 জনের উপর মামলা করা হয়েছে। সেই ২৯ জনের ভিতর আইসিউতে থাকা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া ফারাবীও রয়েছেন।

বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বারবার মিডিয়ার সামনে কথা বলে যাচ্ছি। যার ফলে এদেশের মানুষের সাথে আমাদেরকে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এদেশের মানুষ এদেশের ছাত্রসমাজ তারা আমাদেরকে বিশ্বাস করে আমাদের ভালোবাসে। আমাদের নেতৃত্বে তাদের আস্থার জায়গা রয়েছে। এই কারণে আমাদের আওয়াজ কে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর সহ তার সহযোদ্ধাদের কে হত্যার উদ্দেশ্যই এসব নিশংস হামলা চালানো হয়। এ হত্যা উদ্দেশ্যটি যখন ব্যাহত হয়। তখন তাদের কন্ঠকে আবার রোধ করার জন্য আমাদের উপর এই মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

এই হামলায় আল মামুনসহ যারা প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্বে দিয়েছে তাদের যদি চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনা হয়, এবং আমাদের কোনো নেতাকর্মীদের যদি এই মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয় তাহলে আমরা দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাব আপনার এই সন্ত্রাসী দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন এর প্রতিবাদ করবেন।