২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:২১

যে অপরাধে আমাদের উপর বারবার হামলা

  © সংগৃহীত

আমাদের উপর বার বার হামলা এবং মামলা কেনো! অপরাধ আমাদের?
১. ৩০ ডিসেম্বর এদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি, রাতের আঁধারে ভোট হয়েছে। এই কথা বলাটা আমাদের অপরাধ!
২. আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ করেছি এবং সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করি। এটাই আমাদের অপরাধ!
৩. নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, প্রতিবাদের কারণে নুসরাতের খুনিদের বিচার হয়েছে এটা আমাদের অপরাধ!
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহসানকে মেরে চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিলো, হাফিজুর মুল্লাকে বারান্দায় শুয়ে মরতে হয়েছিলো এগুলো বলি আমরা। এটাই অপরাধ!
৫. গত ১০ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এটা বলাই অপরাধ!
৬. ব্যাংক গুলোকে লুট করা হয়েছে। এটা বলা অপরাধ!
৭. শেয়ার বাজারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক মানুষ সব হারিয়েছেন এটা বলা অপরাধ!
৮. গত ১০ বছরে ৭ শত মত মানুকে গুম করে দেওয়া হয়েছে, শুধু মাত্র ভিন্ন মতের কারণে ৩৫ লক্ষ লোকের নামে মামলা এটা বলা অপরাধ!
৯. কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না এটা বলা অপরাধ!
১০. চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এটা বলা অপরাধ!
১১. ফেলানী সহ এদেশের শত শত মানুষকে সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে এটা বলা অপরাধ!
১২. ভারত চুরি করে ফেনি নদীর পানি নিয়ে যাচ্ছে অথচ আমরা তিস্তার এক ফোটা পানি পাচ্ছি না। এটা বলা অপরাধ!
১৩. এনআরসি করার মাধ্যমে আসামের মানুষদের আমাদের দেশে পাঠানোর পায়তারা চলছে। এটা বলা অপরাধ!
১৪. দেশের প্রতিটি সেক্টর দুর্নীতিতে ভরে গেছে, লুটেপুটে খাচ্ছে কিছু মানুষ। এটা বলা অপরাধ!
১৫.দেশের বিচার ব্যবস্থা চলছে সরকারের ইশারায়। এটা বলা অপরাধ!
১৬. বালিশ কান্ড, পর্দা কান্ড, গাছ কান্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কান্ড। এগুলো বলা অপরাধ!
১৭. বাংলাদেশের কোটা ব্যবস্থা বৈষম্য মূলক, এটার সংস্কার প্রয়োজন সেজন্য আন্দোলন করা অপরাধ!
১৮. দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হলে প্রতিবাদ করা, তাদের পাশে দাড়ানো অপরাধ!
১৯. অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হতে না পারলে তাকে সহায়তা করা আমাদের অপরাধ!
২০. পেঁয়াজের দাম ৩ শত টাকা কেনো, এটা বলা অপরাধ!
২১. বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের অপরাধ! অপরাধ! অপরাধ! অপরাধ।এমন হাজার অপরাধ করার জন্যই আমাদের এই দেশে, এই সমাজে জন্ম হয়েছে। মৃত্যু অবধি এই অপরাধ করে যাবো।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন বললেন এদেশের রাষ্ট্র ভাষা হবে উর্দু, ঠিক তখনি আমাদের অগ্রজরা প্রতিবাদ করলেন। মানি না মানবো না। রাষ্ট্র ভাষা চাই। এখন রাষ্ট্র ভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি এই মানি না, মানবো না এর কারণে।
পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে চাকরি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে বৈষম্য শুরু করলো পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বললেন আমরা এমন বৈষম্য মানি না, মানবো না। বাংলাদেশের জন্ম হলো লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এদেশ স্বাধীন হয়েছিলো বৈষম্য মানি না মানবো না এই ভিত্তিতে, তাই আমরা তরুণ প্রজন্ম এখন বলি, রাজনৈতিক সহিংসতা, বৈষম্য অগণতান্ত্রিক সরকার এবং তার কাজ মানি না, মানবো না।
সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ চাই, প্রতিটি মানুষের সম অধিকার চাই, প্রতিটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চাই, প্রতিটি বেকারের চাকরির নিশ্চয়তা চাই।
হাসান আল মামুন
আহ্বায়ক
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।