ঢাবি গণরুমে ইয়াবা সেবন, বহিষ্কার হচ্ছে ৭ শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের সাত শিক্ষার্থীকে ইয়াবা এবং গাঁজা সেবনের কারণে হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় হলের গণরুমে মাদক সেবন অবস্থায় ধরা পড়েন তারা। বিষয়টি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আসিফ হোসেন খান।
বহিষ্কার হতে যাওয়া সবাই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তারা হলেন- জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের রাকিবুল হাসান, সঙ্গীত বিভাগের মো. শাকিবুল ইসলাম সুজন, সংস্কৃতি বিভাগের অনুপম হাসান আকাশ, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিপন মাহমুদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বায়জিদ বোস্তামি, তথ্যবিজ্ঞান এবং লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাশার পাভেল, টুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রেজা রায়হান।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় হলের মেঘনা ব্লকের ৩০০২ নম্বর রুমে (গণরুম) আট-দশ জনের একটি গ্রুপ গাঁজা এবং ইয়াবা সেবন করছিল। গোপন খবরে সেখানে ছুটে যান হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আসিফ হোসেন খান। এই অবস্থায় হাতেনাতে গাঁজা সেবন অবস্থায় ধরা পড়েন রাকিবুল হাসান এবং শাকিবুল ইসলাম। এমতাবস্থায় অভিযানের খবর পেয়ে অপর ৫-৬ জন শিক্ষার্থী দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষার্থীরাসহ আরও অনেকেই হলের বিভিন্ন রুমে মাদক সেবন করে আসছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, এদের কারণে রুমে থাকা যায় না। রাতে গাঁজা, ইয়াবা সেবন করে চিল্লাচিল্লি করতে থাকে।আর সবসময় ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে। কাউকেই মানে না। কারো অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা দেখে না।
ড. আসিফ হোসেন খান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি খবর পাওয়ার পর হল সংসদের ভিপি সজিবুর রহমান এবং জিএস নাজমুল হাসান নিশানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। মাদক সেবন অবস্থায় ধরা পড়া দুজনকে হল অফিসে নিয়ে আসি। তবে ৫-৬ জন পালিয়ে যায়। এই দুইজন থেকে পালিয়ে যাওয়া ছাত্রদের তালিকাও নিয়েছি।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন জঘন্য কাজের জন্য কোন ছাড় হবে না। আমরা কালকেই (বৃহস্পতিবার) তাদেরকে হল থেকে বের করে দিব এবং আজীবন হল থেকে বহিষ্কার করব।
হল সংসদের ভিপি সজিবুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের তুলনায় আমাদের হলে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কম। তবে আমরা হল সংসদ এরকম কাজের খবর পাওয়া মাত্র কোন বিলম্ব করিনি, সামনেও করব না। এ ধরনের খবর পেলে ব্যবস্থা নিব।
এছাড়া ইয়াবা-গাঁজা সরবরাহকারীদের এবং তাদের পেছনে ইন্ধনদাতাদের অতি শীঘ্রই বের করা হবে বলে আশ্বাস দেন হল সংসদের জিএস নাজমুল হাসান নিশান।
এদিকে অভিযুক্তদের বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলে ড. আসিফ হোসেন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, হলে মাদকসেবনকারীদের বহিষ্কারের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিস্তারিত ঘটনা আমি জানি না। হলে গিয়ে খোঁজ নেয়া হবে।