২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:২২

শঙ্কামুক্ত নন সুহেল, শুরু হয়নি চোখের চিকিৎসা

  © সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলায় আহত ডাকসু ভিপি নুরুল হকসহ চারজনের অবস্থা ভালোর দিকে। তবে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সুহেল এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তার চোখের যে পরীক্ষা সেটি দাঁড়িয়ে করতে হবে। সে কারণে সুহেল কিছুটা সুস্থ হলে তার পর পরীক্ষা করতে হবে।

৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হক জানান, সুহেলের মাথায় ফ্র্যাকচার, কোমরে ব্যথা এবং চোখ এখনও ফোলা আছে। এসব কারণে এখনও তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে ভিপি নুরসহ আহতদের অবস্থা জানাতে এক ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকরা এসব কথা জানান।

সুহেলকে ওপর থেকে নিচে ফেলা হতে পারে বলে মন্তব্য করে ডা. রাজিউল হক আরও বলেন, সুহেলের আঘাতের ধরনে মনে হচ্ছে, তাকে ওপর থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছিল। মাথার ভেতরে বাতাস ঢুকেছে। এই বাতাসের কারণে ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে। মাথায় ফ্র্যাকচারও আছে, কোমরে আঘাত আছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সুহেলের চোখেও সমস্যা আছে। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক তাকে দেখেছেন। তবে তার চোখের যে পরীক্ষা সেটি দাঁড়িয়ে করতে হবে। সে কারণে সুহেল কিছুটা সুস্থ হলে তার পর পরীক্ষা করতে হবে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, আইসিইউতে থাকা ফারাবীর শারীরিক অবস্থা ভালো। আমাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। আজ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হবে।

নুরের শারীরিক অবস্থা ভালো উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘নুরের শারীরিক অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। তিনি কথা বলছেন এবং হাঁটছেন। তার হাতের ও কাঁধের এক্সরে করা হবে আজ। তিনি আশঙ্কামুক্ত।’

ফারুক হাসানের ব্যাপারে পরিচালক বলেন, তার কানে আঘাত আছে। আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। এ ছাড়া আমিনুরের মাথায় আঘাত আছে। তারও সিটিস্ক্যানসহ বেশ কিছু পরীক্ষা করা হবে। তাকে দু’তিন রাখতে হবে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।

শিগগিরই ভিপি নুরসহ অন্যদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান নাসির উদ্দিন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুরসহ আহতদের চিকিৎসায় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেলের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রাজিউল হকক। এ ছাড়া অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা (ইএনটি), অ্যানেসথেশিয়া, নেফ্রোলজিসহ আরও ৮টি বিভাগের আট চিকিৎসককে নিয়ে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিজ কক্ষে নুরের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় নুরুলের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ৩০ জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।