১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৫২

শিক্ষার্থী দ্বারা ঘেরাও হওয়া সেই উপাচার্যই এখন শিক্ষার্থীদের প্রাণ

উপাচার্য নাজমা আখতার

মাস দুয়েক আগেই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে ঘেরাও হতে হয়েছিল নাজমা আখতারকে। ডাকতে হয়েছিল পুলিশ। যদিও তারা তখন আসেনি। কিন্তু রবিবার ‘বিনা অনুমতিতে’ সেই পুলিশের ক্যাম্পাসে ঢোকার প্রশ্নে রুখে দাঁড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বড় অংশের মন জিতে নিয়েছেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে তো বটেই, সরকারের প্রবল চাপের মুখেও নিজের শিরদাঁড়া সোজা রাখায় বিষয়টি তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে।

জামিয়া তো বটেই, দিল্লিতে সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নাজমাই প্রথম মহিলা উপাচার্য। প্রায় চার দশকের শিক্ষকতা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশাসন সামলানোর অভিজ্ঞতা তার। পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেন এবং ফ্রান্সে। উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর পরামর্শ নিয়েছে ইউনেস্কো, ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এর আগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্দিরা গাঁধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ পদে ছিলেন।

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিশ্ববিদ্যালয়কে না-জানিয়ে এবং তাদের অনুমতি ছাড়াই এভাবে চত্বরে ঢুকে পড়ল পুলিশ? তিনি এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করবেন এবং দিল্লি পুলিশের নামে এফআইআর-ও করবেন। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বলেছেন, আগাগোড়া তাদের পাশে থাকবে কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্যের এই সাহসকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক। যদিও তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দিনে এর মাসুল গুনতে হতে পারে নাজমাকে। একই কথা পড়ুয়াদের একাংশের মুখেও। তাদের বক্তব্য, উপাচার্যকে নিয়োগ করে কেন্দ্র। তার উপরে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের জুটির জমানায় নাজমা যে সাহস করে ওই কথা বলতে পেরেছেন, তা মন কেড়েছে তাঁদের। পরে অবস্থান বদলাতে তাঁর উপরে চাপ বাড়ানো হবে কি না, ঘুরছে সেই প্রশ্নও।

২০০৮ সালে বাটলা হাউস সংঘর্ষের পরে জামিয়ার পড়ুয়া তালিকায় নাম পাওয়া গিয়েছিল দুই ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন’ জঙ্গির। তা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। তখনও ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন উপাচার্য তথা ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসান। নাজমার নাম উঠতেই সেই ‘হাসান সাহেবের’ কথাও মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে টেনে আনছেন অনেকে।

ছাত্র সংগঠন এআইএসএ-র প্রেসিডেন্ট এন সাই বালাজির কথায়, ‘‘জামিয়ায় যখন উপাচার্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তখন মঙ্গলবারই চূড়ান্তভাবে পুলিশ বসার জন্য ছাউনি তৈরি হয়েছে জেএনইউয়ের ক্যাম্পাসে।’’ নাজমা যেখানে চত্বরে পুলিশ ঢোকা নিয়ে প্রতিবাদে মুখর, সেখানে পুলিশ তা না-করায় অবমাননার অভিযোগ এনেছেন জেএনইউয়ের উপাচার্য এম জগদীশ কুমার।

এ দিন দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেছেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ তৈরি করা এবং গুণমান বাড়িয়ে বিশ্ব মঞ্চে প্রথম সারিতে উঠে আসা। -আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে