১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:১২

হামলা চালিয়েছেন ভিপি নুর নিজেও

সংঘর্ষ চলাকালীন আঘাত করছেন ভিপি নুর

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে দু’দফা হামলার শিকার হয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও সহযোগীরা। এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের আসেন তারা। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের বাঁধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি আল মামুনের নেতৃত্বে নুরদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে নুরুল হক নুরের বাম হাতের আঙ্গুল ভেঙে যায়। এছাড়া ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন এবং সিফাত নামে ঢাবির এক শিক্ষার্থী আহত হন।

এদিকে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে পাল্টা হামলায় অংশ নিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুর নিজেও। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনায় মেতেছে নুরবিরোধীরা। তারা বলছেন, হামলায় দু’পক্ষই মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো- ডাকসু ভিপি নিজেই এই হামলায় অংশ নিয়েছেন; যেখানে ডাকসুর আরেক নেতা সমাজসেব সম্পাদক আখতার হোসেন মারধরকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের এক যুগ্ম-সম্পাদক তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, নুরুর পদতলে পৃষ্ঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কি জবাব দিবেন তথাকথিত সুশীল বন্ধুরা? নুর পা দিয়ে লাথি মারছেন- এমন ছবি পোস্ট করে ফরিদ নামে একজনের ভাষ্য, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ভিপি নুরের হামলা’। আরেকজনের ভাষ্য, মার খাওয়া সেই ভিপি নুরু এখন সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর হামলা করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদকসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হামলার পরবর্তী সমাবেশে নুরুল হক বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী আর কোন সিদ্ধান্ত নিতে দিব না আমরা। আমাদের শরীরে রক্তের শেষ বিন্দু থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশকে ভারতের হাতে ইজারা দিতে দিব না। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ এই স্বৈরাচার সরকার।অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নুর ডাকসুর ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রতিনিধি। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার নুরের নেই। আমরা সাধারণ ভোটার হিসাবে তাদের জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করতে গেলেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সেখানে মারামারি বাধেঁ।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রাজু ভাস্কর্যে প্রোগ্রাম করা নিষেধ। নুরুল হক ভিপি হিসেবে এটি তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত না। যার জন্য এ দায়-দায়িত্ব নুরুর। যারা হামলা চালিয়েছে তারাও কাজটা সঠিক করেনি। এছাড়া নুরুর কাছে আমরা অনেক বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি।’