ঢাবিতে সাঁটানো আ.লীগ যুবলীগের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ল ছাত্র ইউনিয়ন (ভিডিও)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে সাঁটানো আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ-কৃষক লীগের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ, দীপক শীল, ঢাবি শাখার সভাপতি ফাহাদ, সাধারণ সম্পাদক রাজিব নায়েম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টানা এক মাসব্যাপী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটিও ঘোষণা করা হয় এই সম্মেলনে। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত হয় সারাদেশের আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পোস্টার লাগায় সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা
সোহরাওয়ার্দীতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যস্থ গেইট দিয়েই প্রবেশ করতে হয়। ফলস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ভর্তি হয়ে যায় আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনগুলোর বাসে। এছাড়াও তারা তাদের নেতাদের নামে বিভিন্ন সম্মোহনী পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য জুড়ে ছিল তাদের পোস্টার। এতে ভাস্কর্যটির উপর অসম্মান করা হয় বলে দাবি করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কেন আমাদের ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে এভাবে পোস্টার ভর্তি করা হবে? যেখানে ছাত্ররাজনীতির মুক্ত চর্চা হওয়ার কথা সেখানে জাতীয় রাজনীতি কেন চর্চা হবে? আমরা আমাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছি দিনদিন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আজ রাত সাড়ে আটটায় সব পোস্টার তুলে ফেলে দেয়। তবে মেট্রোরেলের উপর লাগানো পোস্টার এবং ব্যানার তুলেনি তারা।
এই বিষয়ে ঢাবি শাখার ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফাহাদ বলেন, রাজু ভাস্কর্য একটি আবেগের জায়গা শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানে এ ধরনের পোস্টার ব্যানার লাগানো অবমাননাকর। আমরা বলেছিলাম সম্মেলনের পর পর পোস্টার ব্যানারগুলো তুলে ফেলার জন্য। কিন্তু এতদিন পার হওয়ার পরও তারা সেসব তুলে নেয়নি। তাই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহন করি।
তিনি আরো বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের উপর শান্তিনগরে হামলার প্রতিবাদে মশাল করি আমরা,তারপরে আমরা রাজু ভাস্কর্যকে এসব অবমাননা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করি।