২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৫

ঢাবিতে ঘুমন্ত ছাত্রদের গায়ে খসে পড়ল পলেস্তারা

  © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) জগন্নাথ হলে ভবনের পলেস্তারা খসে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হলে ঘুমন্ত অবস্থায় ভোরের দিকে হঠাৎ উপর থেকে পলেস্তারা খসে নিচে পড়ে। রবিবার (২৪ নভেম্বর) ভোরে হলের সংসদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ব্যাংকিং এ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সুবল কিস্কো, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স অধ্যয়নরত এডওয়ার্ড সরেন।

জানা যায়, হলে জায়গার সংকলন থাকায় হলের সংসদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় একসঙ্গে অধিবাসী ৪০ জন শিক্ষার্থী থাকে। অন্যান্য দিনের মতোই শনিবার দিবাগত রাতে নিত্যদিনের কাজ-কর্ম শেষে ঘুমিয়ে যায় জগন্নাথ হলের সংসদ ভবনের দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে গেলে ভোরের দিকে হঠাৎ উপর থেকে পলেস্তারা খসে নিচে দুজন শিক্ষার্থীর পায়ে পড়ে। এতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত সুবল কিস্কোকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে দায়সারা বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ওই ভবনে আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি হলের প্রাধ্যক্ষ মিহির লাল সাহাকে অবহিত করলে তিনি দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেছেন, যেহেতু কদিন পর পর সংসদ ভবন থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে তাই তিনি শিক্ষার্থীদের ওই ভবনে থাকতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে তা তিনি বলেননি। বিষয়টি নিয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে ভবনের শিক্ষার্থীরা।


বিষয়টি নিয়ে ওই ভবনে আবাসিক শিক্ষার্থী হিতো চাকমা বলেন, ‘আমরা আদিবাসী শিক্ষার্থীরা হলে জায়গা না থাকার কারণে আমরা ওই ভবনে বসবাস করছি। কিন্তু প্রায় সময়ই পলেস্তারা খসে পড়ে। গতকাল পলেস্তারা খসে পড়ে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন দায়সারা বক্তব্য দিয়েছে।

হিতো চাকমা বলেন, টাকার চেয়ে জীবন অনেক বড়। তোমরা বাইরে থাকতে পারো। কিন্তু তিনি আমাদের হলে ব্যবস্থা করে দিবেন এমন কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, আমার উপায় নাই আমি নিরুপায়। আমি তোমাদের জায়গা দিতে পারছিনা। এখন যদি আমাদের এ ভবন থেকে চলে যেতে হয় তাহলে আমরা কোথায় থাকবো।

আহত শিক্ষার্থী এডওয়ার্ড সরেন বলেন, ‘ভোর পাঁচটার দিকে পলেস্তারা খসে পড়ে আমরা দুজন আহত হই। পরে গুরুতর আহত সুবলকে ঢামেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমিও পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। তবে, হল প্রশাসন বলেছেন, তোমরা বাইরে থাকো, তোমরা এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন থাকছো। তখন আমরা বললাম, স্যার আমরা কোথায় থাকবো। আমাদের থাকার জায়গা নেই। তখন তিনি বলেছেন আমিও তোমাদের রুম দিতে পারছিনা, তোমরা বাইরে থাকো।’

হল প্রাধ্যক্ষ মিহির লাল সাহা বলেন, ‘আমি এমনটা বলিনি। আমি হলে নতুন আসছি। আমি চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধান করতে।’