গণরুমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিসির বাসভবনে থাকার ঘোষণা ডাকসু নেতার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন আবাসিক হলের আবাসন সংকটের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় গণরুমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত। আগামী মঙ্গলবার ভিসির সঙ্গে সকালের নাস্তা করার মাধ্যমে তার বাসভবনে থাকা শুরু করবেন বলেও জানান সৈকত। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সৈকত। এসময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলের গণরুমের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈকত বলেন, ‘গণরুম সমস্যা সমাধানের জন্য পহেলা অক্টোবর সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণরুমবাসী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে ছাত্র সমাবেশ থেকে গণরুম সমস্যা সমাধানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। তা না হলে গণরুমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে উঠার একটি আল্টিমেটামও দিয়েছিলাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার অনুষ্ঠিত প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে আশাব্যঞ্জক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এজন্য প্রশাসনকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যা শিক্ষার্থীদেরকে পূর্বের আশার বাণী শুনিয়ে শুনিয়ে কালক্ষেপণের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা আরো একবার আশাহতের বেদনায় জর্জরিত হওয়ার আশঙ্কা করছে।’ এমতাবস্থায় তাদের দাবি আদায়ের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান সৈকত।
তিনি বলেন, ‘ভিসি মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হয়েও শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরা মানবেতর জীবনযাপন করবে আর তিনি প্রাসাদোপম বাংলোয় আয়েশে থাকবেন এটা কোনোভাবেই অভিভাবকসুলভ কোনো কাজ হতে পারে না। ভিসি মহোদয়ের বিবেকে না বাধলেও, গণরুম সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অভিভাবকের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে চাই।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সংকট নিরসন ও গণরুম সমস্যা সমাধানের দাবিতে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে নিজের সিট ছেড়ে গণরুমে থাকছেন ডাকসু সদস্য সৈকত। পরে ৩ সেপ্টেম্বর গণরুম সমস্যা সমাধানকল্পে ভিসি বরাবর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বানের পাশাপাশি সাময়িক সমাধানের কয়েকটি প্রস্তাবনা সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন তিনি। এছাড়া এসব দাবিতে পহেলা অক্টোবর গণরুমের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি ছাত্র সমাবেশও করেন তিনি।