দয়া-দাক্ষিণ্য চাই না, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করুন
এই জুলাই মাসের ১২ তারিখে দ্বিতীয় দফা বাধ্যতামূলক ছুটির ২ বছর পূর্ণ হলো। দুই দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী জীবনের অর্ধেকের বেশী বাধ্যতামূলক ছুটি। আমার বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন রকম তদন্ত ছাড়া আমাকে দুই বছর বাধ্যতামূলক ছুটিতে রেখেছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ সেটাও আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায় নাই। আমি সেই সময়েই এই সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে আদালতে রীট করি। সেই মামলাও এখন ঝুলে আছে।
দ্বিতীয় দফা বাধ্যতামূলক ছুটির প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যেতে পারি অর্থনীতি বিভাগে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর সাতটি চিঠি লিখি। এরপর ২০১৭ এর ৭ই জুলাই প্রথম আলোতে 'উল্টো পথে কি শুধুই বাস' এই শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করে একটি কলাম প্রকাশিত হয়। তাঁর পাচঁ দিনের মাথায় অর্থনীতি বিভাগ একাডেমিক কমিটির মিটিং ডেকে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ এনে আআমস আরেফিন সাহেবের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তি দাবী করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোন শিক্ষককে ৯০ দিনের বেশী বাধ্যতামূলক ছুটিতে রাখা যায় না। সেখানে আমার দুই বছরের বেশী হয়ে গেলো। এই ভয়ানক অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করছে আর সেটিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে মদত দিচ্ছে অর্থনীতি বিভাগ।
আমি কারো কাছে কোন রকম দয়া দাক্ষিণ্য চাচ্ছি না। পারলে আমার বিরুদ্ধে সকল অপরাধের, অভিযোগের তদন্ত করুন। তদন্তে আমার অপরাধ খুঁজে পেলে শাস্তি দিন। তা না করে ব্যাপারটা এইভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখাটা এক ভয়ংকর অন্যায়।
আমার বিভাগের বিশ্বের সেরা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে আসা শিক্ষক শিক্ষিকাদের নুন্যতম মানবিকতা এবং ন্যায়নীতি বোধ থাকলে উনারা সেটা অনেক আগেই বুঝতে পারতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক ভাবে সেটির কোন আলামত পাচ্ছি না।
এই ভয়ংকর অন্যায় সংঘটিত করে উনারা নির্বিকার ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন! (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)