কাঁদিয়ে চলে গেলেন বিনিতা রাণী
বিনিতা রাণী চলে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পড়ছিলেন দর্শন বিভাগে, চতুর্থ বর্ষে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সব দুমড়ে-মুচড়ে গেল। ভেঙে গেল স্বপ্ন; অসহায় হয়ে পড়লেন গোটা পরিবার। রবিবার সকাল ১০টার দিকে মারা যান তিনি। অথচ ঘন্টাখানেক আগেও আলাপকালে নিজের মোবাইল নম্বর (০১৭৩৭ ২৩৫....) বিকাশ করা আছে জানিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন ভাই নিরঞ্জন।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিনিতার বড় ভাই নিরঞ্জন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সে ইহলোক থেকে ৪০ মিনিট আগে চলে গেছেন। আমাদের কিছু করার ছিল না। বলেই কেঁদে ফেলে ফোন রেখে দেন নিরঞ্জন।’ বিনিতার চলে যাওয়ার খবরে নিজ বিভাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, কিডনী রোগে ভুগছিলেন বিনিতা। বিষয়টি নিয়ে অনেক ডাক্তার দেখালেও সবাই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার কথা বলছেন। তাছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি তাদের ভাবতে হচ্ছিল। সববিমিলয়ে নিরুপায় হয়ে পড়েছিল বিনিতার পরিবার।
এর আগে সকাল সাড়ে টার দিকে নিরঞ্জন বলেছিলেন, চতুর্থ বর্ষে পড়া অবস্থা তার সমস্যা শুরু হয়। এতে করে কিছুদিন পড়ালেখা বন্ধ ছিল। পরে ঠিক হলেও বর্তমানে টিকতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়েই গত দেড় বছর ধরে বাড়িতে অবস্থান করছিল বিনিতা। তিনি জানান, দেশে অনেক চিকিৎসা করা হয়েছে; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাই আপাতত ভারত নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সেখানেই চিকিৎসা করাবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
জানা যায়, বিনিতা রাণী ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানা অধিবাসী। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য কয়েক লক্ষাধিক টাকা প্রয়োজন। যা তার পরিবারের পক্ষে ম্যানেজ করা কষ্টসাধ্য। বিনিতা রাণী বাঁচতে চায়। চায় আগের মতো আবার সবার সাথে হাসিখুশিভাবে কথা বলতে। পরিবার বলছেন, বিত্তবানরাসহ সমাজের অন্যান্যরা যদি নিজেদের সাধ্যমতে একটু সহায়তার হাত সম্প্রসারিত করে তাহলে বিনিতার মুখে হাসি ফোটানো কোনো ব্যাপারই নয়।