০১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৭

ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয়ে হলে থাকছেন বহিরাগতরা

বহিরাগত খোরশেদ আলম  © টিডিসি ফটো

অনেকদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্র পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১০২৫ নম্বর কক্ষে থেকে আসছিলেন খোরশেদ আলম। সবাইকে পরিচয় দিতেন তিনি অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র এবং তার সিজিপিএ ৩.৮১। তিনি একই পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমও করতেন বলে জানা গেছে। রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহিরাগত হিসেবে শনাক্ত করে হল থেকে বিতাড়িত করেন সাংবাদিক কবির কানন।

এ ব্যাপারে কবির কানন তার ফেসবুকে ছেলেটির ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র পরিচয় দিয়ে মুহসীন হলে থাকত, একই পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মেয়ের সাথে ভালবাসাও করত। পরে জানা গেল সে আসলে পড়ালেখাই করে না। তাকে মুহসীন হল থেকে বিতাড়িত করে দিলাম।’ তিনি আরও বলেন, হলে আরও বহিরাগত আছে তাদের বের করতে পারলে আসন সংকট কিছুটা কমবে।

হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হলে বহিরাগত ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। তিনি বলেন, আগামী ৩মাসের মধ্যে হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গিয়েছে তারাও থাকতে পারবে না। হলে বহিরাগত থাকার খবর ছাত্ররা তাকে আগে কখনো জানায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুহসীন হলের জিএস মেহেদি হাসান মিজান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হলে অনেক বহিরাগত আছে। আমাদের প্ল্যান আছে সব বহিরাগত বের করার। আমরা একটা লিস্ট করছি এবং ধাপে ধাপে প্রথমে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের না তাদের বের করবো, তারপর যারা আমাদের হলের না তাঁদের বের করবো।

এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে বহুসংখ্যক বহিরাগত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তেমনি আরেকজন আব্দুল জলিল। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং থাকেন ঢাবির মাস্টার দা সূর্যসেন হলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাস্টার দা সূর্যসেন হলের একজন শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জলিল একজন বহিরাগত এবং সে তিন বছর ধরে আমাদের হলে থাকছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব হলেই বহিরাগতরা বিভিন্ন নেতার ছত্রছায়ায় নিরাপদে বসবাস করে আসছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে গণরুমে কিংবা হলের বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।