বনানী ট্রাজেডি: লাফিয়ে পড়াদের একজন ঢাবির মেয়ে (ভিডিও)
রাজধানী বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে আকাশচুম্বী ফারুক রূপায়ণ (এফ আর) টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড থেকে বাঁচতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন আটকা পড়া উৎকণ্ঠিত মানুষেরা। তারা শুরু করেন ছোটাছুটি। কেউ কেউ ভবনের বাইরের ক্যাবল তার ধরে নেমে, আবার কেউবা লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন।
এমনিভাবে ক্যাবল ধরে নেমে প্রাণে বাঁচতে চেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাতুল। তার পুরো নাম সাইয়্যেদা আমেনা ইয়াসমিন। কিছুদূর নামার পর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে, ছিটকে নীচে পড়ে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে।
চ্যানেল আই’র বার্তা প্রধান জাহিদ নেওয়াজ খান রাতুলকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জীবনে মৃত্যুই সবচেয়ে বড় সত্য। কিন্তু, এমন মৃত্যু! রাতুলকে আমরা চোখের সামনে মরে যেতে দেখলাম। টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারে দেখলাম, বনানীর আগুন থেকে বাঁচতে একটি তার (ক্যাবল) ধরে নেমে আসার চেষ্টার সময় একটি এসিতে ধাক্কা খেয়ে রাতুল পড়ে গেল। এরপর রাতুল আর নেই।’
‘ইউটিউবে-ফেসবুকে এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। প্যান্ট-শার্ট পরা ছিল বলে আমরা হয়তো তাকে কোনও ভদ্রলোক ভেবেছিলাম। কিন্তু, সেটা ছিল রাতুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ব্যাচেই ছিল সে, অন্য ডিপার্টমেন্টে। ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াতে সেন্টুদের টেবিলে আড্ডা দিতো, পাশের টেবিলে আমরা। দুই টেবিলের মধ্যে কমন বন্ধুরা ছিল, রেষারেষিও ছিল কখনও কখনও। একবার তো বন্দুক তাক করার ঘটনাও পর্যন্ত ঘটেছিল। সেন্টুদের টেবিলের সেই সেন্টু কয়েক মাস আগে চলে গেল হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে। আজ রাতুল!’
‘রাতুলের মৃত্যুর ফুটেজ প্রচার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু, আমরা লাইভে দেখলাম, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার উদ্যোম আড্ডার রাতুল আর নেই!’
রাতুলের আরেক বন্ধু আশরাফ কায়সার লেখেন, ‘ওই মিয়া কই যাও? এভাবে পেছন থেকে আর কেউ ডাকবে না। পাশাপাশি এসে ঠাস করে ঘাড়ে হাত রাখবে না কেউ। মধ্য দুপুরে কেউ বলবে না, চল সবাই মিলে জাহাঙ্গীরনগর যাই। হাত ধরে রিকশায় তুলে বলবে না চল বাংলা সিনেমা দেখতে বলাকায় যাই। রাতুল আমার বন্ধু। ক্যাম্পাসে এক সময়ের অনবদ্য, নামহীন, গোত্রহীন, গন্তব্যহীন জীবনের বন্ধু। শেষ আড্ডা শেষে বলেছিল, এক দুপুরে ওর অফিসে যেতে। বনানীর এফ আর টাওয়ার। বলেছিলাম যাবো। আজ সব যাওয়া আসার ঊর্ধ্বে চলে গেল রাতুল।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৫৯ জন।