১৭ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩৪

ডাকসুর পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বাম জোটের কর্মসূচি ঘোষণা

  © ফাইল ফটো

ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিলের দাবিতে ভোট বর্জনকারী প্যানেলের দেয়া আলটিমেটাম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এদিকে, শনিবার ভোট বর্জনকারী প্যানেলগুলোর একটি প্যানেলের নেতা নুরুল হক নুর গণভবনে যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বাকি প্যানেলগুলো।

এ নিয়ে আগামীকালের আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে রবিবার দুপুর ১ টায় মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট থেকে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নির্বাচন হয়েছে, সে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একধরনের কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। আমরা ১১মার্চ নির্বাচনের দিন ৫টি প্যানেল যৌথভাবে এই নির্বাচনকে বর্জন করেছিলাম এবং একইসঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু গতকালের (শনিবার) নুরুর বক্তব্য সবাইকে হতাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা এক সঙ্গে এতোদিন লড়াই সংগ্রাম করেছি। নুরু গণভবনে যেতেই পারেন। তবে তিনি সেখানে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা প্যানেলগত বক্তব্য নয়, সেটার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক বলে আমরা মনে করি। গণভবনে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নুরু বলেছেন, সব কাজে ১০০ শতাংশ পিউরিটি থাকে না। সামান্য কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মেসেজ দেওয়ার অনুরোধ করেন, যেন আগামী নির্বাচনে কোন ত্রুটি না থাকে।

এরপর লিটন নন্দী বলেন, এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং এখনো করছি। আর শনিবার আমাদের তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। এরপর তিনি তাদের দাবি গুলো পুনর্ব্যাক্ত করেন।

নির্বাচন বর্জনকারী পাঁচ প্যানেলের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল— জালিয়াতির ডাকসু নির্বাচন বাতিল করা; পুনঃতফসিল ঘোষণা করা; নির্বাচনের সাথে জড়িত ভিসি, চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের পদত্যাগ করা; মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা

তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের প্যানেলে ছাড়া বাকি প্যানেলগুলোকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে লিটন নন্দী বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করছি প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের জায়গা থেকে। বাকি তিনটি প্যানেল এখনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরে তারা আপনাদের সাথে কথা বলবে।আর নুরুর প্যানেলও মনে করে নুরু যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা তাদের সংগঠন বক্তব্যের সাথে যায় না। তাই তারাও এখন বসে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে তিনি নৈতিকতার জায়গা থেকে এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার সুযোগ দেখেন না বলে জানান।

এরপর লিটন নন্দী তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আগামীকাল সোমবার আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিচ্ছি এবং আমরা সকাল ১১টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে ভিসি কার্যালয়ে যাব।

বাকি প্যানেলগুলো থেকে তারা আলাদা হয়ে গেছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা সরে যাইনি। তারা তাদের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। সামগ্রিক আন্দোলনের স্বার্থে আমরা আমাদের বক্তব্যটা স্পেসিফিক করেছি। আমরা এখনো সকলে একত্রিত হয়ে এই আন্দোলনকে চলমান রাখতে চাই। বাকি প্যানেলগুলো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নিশ্চয় আন্দোলনের সাথে তাদের এবং আমাদের মধ্যে দ্বিমত নেই। যারা এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন আমরা মনে করি, তারাও এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।

নুরু তাদের সাথে প্রতারণা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সাথে আমরা এখনো কথা বলতে পারিনি। তবে তার এই বক্তব্য ছাত্রদের স্পিরিটের সাথে প্রতারণা পূর্ণ। আমরা আহ্বান করব নুরু তার বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে স্পষ্ট করবেন। তবে আমরা সকলকে নিয়ে আন্দোলনটা করতে চাই এবং ছাত্রদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই।

প্রসঙ্গত, গত ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি প্রায় প্যানেল নির্বাচন বর্জন করেছে। পুনঃতফসিলের জন্য তিনদিনের আলটিমেটাম দেয়। শনিবার এই আলটিমমেটাম শেষ হয়।