১৫ মার্চ ২০১৯, ২৩:৪৬

৭২ ঘন্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

  © টিডিসি ফটো

৭২ ঘন্টারও বেশি সময় পর অনশন ভেঙ্গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিল ও নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ ডাকসুর নেতারা অনশন স্থলে গিয়ে তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে তাদের লাচ্ছি খাইয়ে অনশন ভাঙালেন উপস্থিতিরা। 

এ সময় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘তোমরা আমাদের সাথে বসো। আমরা তোমাদের সব অভিযোগ শুনবো’। এসময় আগামী ১৮ মার্চ সকাল ১০টায় সবাই আলোচনায় বসবেন বলে তিনি ঘোষণা দেন।

ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা সবাই জানি। এজন্য কুয়েত মৈত্রী হলে হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারন করা হয়েছে আর রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করার ব্যাপারে আমিও একমত। আমি তোমাদের সাথে আছি এবং আগামীতে থাকব। 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, তোমাদের দাবিগুলো আমরা শুনব। স্বচ্ছতার কোনো শেষ নেই। পরবর্তীতে আমরা আরও গুরুত্ব দেব।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে বামজোটের আটজন প্রার্থী ও সমর্থকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি ছিল।

অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ তানজিম, দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শোয়েব মাহমুদ, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রনি হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিয়া তামান্না, আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিম আরাফাত মানব, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আল মাহমুদ তাহা। এর মধ্যে রবিউল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু’র সমাজসেবা পদে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছিলেন।