৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অনশনরতদের দেখতে যায়নি প্রশাসনের কেউ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ডাকসু নির্বাচনের পুনঃ তফসিল ও নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে ছয় শিক্ষার্থীর। তাদের অনশনের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের কেউ দেখতে আসেনি। এদিকে, রোকেয়া হল ছাত্র সংসদে পুনঃর্নির্বাচন এবং প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে অনশনরত পাঁচ ছাত্রীর সাথে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দেখা করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। এসময় প্রক্টর তাদের অনশন ভেঙে হলে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন।
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনকারীরা রোকেয়া হলের অনশনকারীদের একদিন আগে তাদের কর্মসূচি শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ দেখতে আসেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনকারীরা।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনশনে অংশ নিয়ে সবাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে তাদের মনোবল এখনো অটুট রয়েছে। সেখানে মোট আটজন অনশনকারী ছিল। তবে তাদের মধ্যে অনিন্দ্য মণ্ডল এবং রবিউল নামের দুই শিক্ষার্থী বেশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনশনস্থল ত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে রবিউল দৃষ্টিপ্রতিবন্দী। বর্তমানে বাকী ছয়জন অনশনস্থলে রয়েছেন। এর মধ্যে একজন ছাত্রী। তাদের সবার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ বলে জানা গেছে।
তাহা আল মাহমুদ নামে এক অনশনকারী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি। হয়তো তারা আমাদেরকে মানুষ মনে হয় না। তিনি বলেন, আমরা বসে আছি রাজু ভাস্কর্যের সামনে। এ ভাস্কর্য হচ্ছে একটা ভয়ংকর সিম্বল। তারা ডাইরেক্ট অ্যাকশনকে ভয় পায়। যেহেতু আমরা ডাইরেক্ট অ্যাকশন নিয়েছি, তাই তারা ভয়ের মধ্যে আছে।
প্রশাসনের কেই দেখতে আসেনি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা একটা নির্লজ্জ প্রশাসন। আমরা এ প্রশাসনকেও মানি না। তারা জানে যে আমরা তাদের পদত্যাগ চাই তাই তারা আমাদের সাথে দেখা করতে আসেনি। এটা তাদের কাপুরুষতা ও নির্লজ্জতাই প্রমাণ করে। আমরা এখানে আমরণ অনশনে বসেছি, আমরা এখানেই মরবো। আমরা অবশ্যই হার মানবো না। এসময় তিনি বলেন, হয় আমাদের দাবি আদায় হবে, নয় আমরা মরবো।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে অনশনে বসেন চার শিক্ষার্থী। পরে যোগ দেন তাদের সঙ্গে আরও দুজন। রাত ১২টার দিকে রনি হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী অনশন ছেড়ে চলে যান। আর রাত দুইটার দিকে নতুন করে অনশনে যোগ দেন ভূতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহা আল মাহমুদ। রাতে ছয় অনশনকারীদের ঘুমানোর জন্য কাঁথা ও কম্বল এনে দেন সহপাঠীরা। বুধবার বেলা তিনটার দিকে অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনিন্দ্য মণ্ডল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
বুধবার দুপুরের পর অনশনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন আরও দুজন। তারা হলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তরের মিম আরাফাত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রবিউল ইসলাম। রবিউল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ডাকসু নির্বাচনে সমাজসেবা পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। আর আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ নেন মিম আরাফাত মানব।