ডাকসু নির্বাচন: অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই শোভনের পরাজয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের চার শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডাকসু নির্বাচনের পরের দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করলো।
এদিকে, এ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের পরাজয় নিয়ে ঘরে বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে না চাইলেও দলের অনেকেই এ পরাজয়ের নেপথ্যে ছাত্রলীগের বিদ্রোহ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটা বড় ভূমিকা রেখেছে। শোভনের পরাজয়ের ঘটনায় ছাত্রলীগে এক ধরনের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েছেন।
ভিপি পদে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের প্রার্থী ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন পরাজিত হলেও ২৫টি পদের মধ্যে জিএস ও এজিএসসহ মোট ২৩টি পদে জয়ী হয়েছে তাদের প্যানেলের প্রার্থীরা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এমন ফল পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা।
তবে ভিপি পদে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুন্ধান করতে ফল বিচার বিশ্লেষণ করা হবে বলেও জানান তারা। শিগগিরই ফল মূল্যায়ন করে একটি রিপোর্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শুধু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই নয়, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপালনকারী কমিটির কেউ কেউ এমনটাই মনে করেন। ভিপি পদে হেরে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে শিগগিরই একটি রিপোর্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেবেন বলে কমিটির একাধিক নেতা দাবি করেছেন। এ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল ও আখতারুজ্জামান।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের বিশাল বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানাতে চাই। তাদের রায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকায় আমার এক ধরনের উপলব্ধি হয়েছে যে, ভিপি পদটি হারাবার কারণ হিসেবে আমি দেখি, এই পদটির ব্যাপারে ছাত্রলীগের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব ছিল।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ফলকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে ডাকসু নির্বাচনে এবারই সবচেয়ে ভালো ফল এসেছে। ভিপি পদে ফল খারাপ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পরাজয়ের পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এখানে নেতিবাচক রাজনীতিও কাজ করেছে। একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী ডানপন্থি শক্তি, জামায়াত-শিবির-ছাত্রদল, বাম, অতিবাম সবাই ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তারপরও ২৫টির মধ্যে ২৩টি পদে জয় একটা বিশাল অর্জন। তারপরও আমরা ভিপি পদে কেন এমন ফল হলো তার কারণ অনুসন্ধানে সবার সঙ্গে কথা বলব। আমরা খতিয়ে দেখব কোথাও কোনো ফাঁকফোকর থাকল কিনা। এর পেছনে কারও কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মতো বিষয় ছিল কি না। এসব বিষয় মাথায় রেখে ফল বিশ্লেষণ করব যেন আগামীতে এমটা না হয়।
কমিটির আরেক সদস্য আওয়ামী লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ভিপি পদে পরাজয়ের কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হবে। আমরা এর পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব। এর ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।