১১ মার্চ ২০১৯, ১৩:০১

ব্যালটবাক্স সরিয়ে ফেলায় রোকেয়া হলে ভোট স্থগিত

বেগম রোকেয়া হলে বিক্ষুব্ধ ভোটাররা  © সংগৃহীত

ভোটের ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ডাকসু ও হল সংসদের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে অন্যান্য ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরু হলেও রোকেয়া হলে শুরু হয় এক ঘণ্টা দেরিতে। এসময় ছাত্রদল, বাম জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন যে, তিনটি ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ। এসব অভিযোগের ভিত্তিকে ভোট স্থগিতের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

সেখানে গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর।

এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। এসময় আরও দুই প্রার্থী আহত হন।অন্য আহতরা হলেন- স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণী ও শ্রবণা শফিক দীপ্তি। মারধরে আহত হয়ে পড়া নূরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বেলা ১২ টার দিকে রোকেয়া হলের ভোট স্থগিত করা হয়।

বাম জোট থেকে রোকেয়া হলের জিএস প্রার্থী মুনিরা দিলশাদ ইরা অভিযোগ করে বলেন, সকালে যখন ভোটগ্রহণ শুরু হয়, তখন আমরা ব্যালট বাক্স দেখতে চাইলেও দেখানো হয়নি। পরে আমরা বিক্ষোভ শুরু করলে ৯টার দিকে ব্যালট বাক্স দেখানো হয়। রোকেয়া হলে ব্যালট বাক্স থাকার কথা ৯টি। তবে আমাদেরকে দেখানো হয়েছে ছয়টি।

তিনি বলেন, রোকেয়া হলে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে টিভি রুমে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের যেতে দেয়া হচ্ছে না। হল গেট থেকে বলা হচ্ছে এখন ভেতরে যাওয়া যাবে না। ভোট দেরিতে শুরু করার কারণ সম্পর্কে রোকেয়া হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালমা আক্তার বলেন, কিছু জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ভোট শুরু করা যায়নি। তবে কী ধরনের জটিলতা সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুল হক অনিক অভিযোগ করে বলেন, প্রভোস্ট ম্যাডামকে বলার পর ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেরি করার যৌক্তির কারণ দেখি না। এর কোনো ব্যাখ্যাও দেয়া হয়নি।

ব্যালটবাক্সে নম্বর নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যালটবাক্স আমাদের সামনে খুলে সিলগালা করা হলেও কোনো বাক্সেই নম্বর নেই। ফলে এ নিয়ে আমরা শঙ্কায় রয়েছি।