আইডি কার্ড না থাকলেও ডাকসুর ভোট দেয়া যাবে
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদে ভোট দেয়া যাবে। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ভোটারদের আবসিক হলের আইডি কার্ড নবায়ন করা কোনো বিষয় না। হল কর্তৃপক্ষ চাইলে তাদেরকে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে পারে। তবে তা কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত নয়।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, চূড়ান্ত তালিকায় যাদের ভোটার; তাদের সবাইকে ভোট দেয়ানোর চেষ্টা করব। এ ক্ষেত্রে বৈধ আইডি কার্ড বিষয় না। একই কথা জানান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও জহুরুল হক প্রোভোস্টও। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রোভোস্ট জানান, তাদের হলে সবাই বৈধ আইডি কার্ডধারী। কারো আইডি মেয়াদোত্তীর্ণ নেই।
এছাড়া একাধিক হলের কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে; তারাই ভোট দিতে পারবে। তবে সে যে ওই হলের ছাত্র তার একটা প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে পে-ইন স্লিপ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখাই উচিত। যদিও বিজয় একাত্তর ও হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল প্রোভোস্ট জানান, তারা বৈধ আইডি দিয়েই ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। সে ক্ষেত্রে কেউ চাইলে রবিবারও আইডি নবায়ন করতে পারবে।
হল সূত্রে জানা যায়, হলের বাইরে যেসব শিক্ষার্থী থাকে তাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর হল আইডি কার্ড নেই। অনেকের আইডি কার্ড থাকলেও তা নবায়ন করা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ আইডি কার্ড দিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনেকের শঙ্কা ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। আর ৫ মার্চ প্রকাশ করা হয় সম্পূরক ভোটার তালিকা।
ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র ইসরাইল হোসাইন হল আইডি কার্ড নবায়ন না করায় ভোট দিতে পারবেন না বলে হতাশ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভোট দিতে পারব না। কেননা আমার আইডি কার্ড নবায়ন করা নেই।’ হলের বাইরে থাকা হাবিবুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থীও এমন হতাশার কথা জানান। শিক্ষার্থীদের হতাশার বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান।
এ বিষয়ে ঢাবির জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেলওয়ার হোসেন বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেই সে ভোট দিতে পারবে। হল আইডি কার্ড জরুরি বিষয় নয়। তবে সে যে হলের ছাত্র তার একটা ডকুমেন্ট থাকতে হবে।
উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২৮ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। তথ্যমতে, ডাকসু ও ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩টি। আগামী ১১ মার্চ সকাল ৮টা হতে থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের একটানা ভোট গ্রহণ হবে। ১৮টি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অন্যদিকে ডাকসুর ২৫টি পদে ১২টি প্যানেল থেকে ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ২১ জন এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী ১৪ জন। এর সঙ্গে ১৮টি হল সংসদে ১৩টি পদে মোট ২৩৪টি পদে প্রার্থী ৫০৯ জন।
আরো পড়ুন:শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ার প্রতিশ্রুতি ছাত্রদলের