২৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:০৮

মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে: প্রক্টরকে ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

'চলতি সেমিস্টারের একটি কোর্সের জন্য ডিনস কমিটি আমাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমার বাবা হার্টঅ্যাটাকের রোগী, যার ওপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। তার পক্ষে এত টাকা দেয়া সম্ভব নয়। সবাই পরীক্ষা দিলেও আমি টাকার অভাবে না দিতে পারায় হতাশায় ভুগছি। হতাশা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।'

জরিমানার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এমনই একটি চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

জানা  যায়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই ছাত্র প্রক্টরকে চিঠিটি দেন। জরিমানা মওকুফের আবেদন শিরোনামের ওই চিঠিতে উপরোক্ত বক্তব্যগুলো উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীর চিঠি

 

জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার সময় ওই কোর্সটির পরীক্ষা দিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ডিনস কমিটি। সেই টাকা মওকুফের আবেদন জানিয়েই ওই শিক্ষার্থী এ চিঠি লিখেছেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে চলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে গত কয়েকদিনেই আত্মহত্যা করেছেন তিন ছাত্রী। যাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ সেশনের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মেহের নিগার দানি ১৬ নভেম্বর দুপুরে যশোরের নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। দানির আত্মহত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তারও আগে ১২ নভেম্বর বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা রেজা সিলভি আত্মহত্যা করেন। প্রেমঘটিত কারণে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়। সিলভির অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর শোক যেতে না যেতেই ১৪ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে আত্মহত্যা করেন ঢাবি অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লায়লা আঞ্জুমান ইভা। ইভার মৃত্যুর পরের দিনই অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ঢাবির আরেক ছাত্র। তবে বন্ধু ও হলের অন্য শিক্ষার্থীদের তৎপরতায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ওই শিক্ষার্থী। ওই তিন ছাত্রীর পর সর্বশেষ সপ্তাহে এই সারিতে নাম লেখায় হুজাইফা রশিদ।