মুখে কালি মেখে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ
শ্রমিক ধর্মঘটের নামে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি ও লাঞ্ছনা, অ্যাম্বুলেন্স চলতে না দেয়া এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাধা প্রদান করার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মুখে কালি মেখে ‘জাতির মুখে চুন কালি, কালি মুখেই প্রতিবাদ’ শিরোনামে মানববন্ধন পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মুখে কালি মেখে প্রতিবাদ জানানোর অভিনব এ পদ্ধতি প্রসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী আবছার তারেক বলেন, ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের নামে সড়কে সন্ত্রাসীরা আমাদের বোনদের মুখে কালি মেখে দিয়েছে, এমনকি তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অ্যাম্বুলেন্স ও ৭ দিনের শিশুও। এরই প্রতিবাদ জানাতে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘নৌমন্ত্রীর নেতৃত্বে একদল শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ৷ যখন আইনটি পাশ হয় তখন তিনিও এটিকে সমর্থন করেছেন। তাহলে কেন আবার তিনি আন্দোলনের ডাক দিলেন ৷ পরীক্ষার্থীদের হলে যেতে দেয়া হয়নি ৷ তিনি কেন শ্রমিকদের সাধারণ মানুষের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন ৷ তারা যেভাবে নারী-পুরুষসহ স্কুলের ছাত্রী থেকে সবাইকে অপমান করছে এটা আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না ৷ তারা অ্যাম্বুলেন্সকে আটকিয়ে একটি নবজাতককে হত্যা করেছে ৷ এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না ৷ আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আন্দোলনকারী ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল করিম বলনে, ‘সংবিধান নাগরিকদের আন্দোলন করার অধিকার দিয়েছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। তবে আন্দোলনের নামে কোনও নাগরিকের চলাফেরা করার অধিকার এবং পথ অবরোধ করার অধিকার শ্রমিকদেরকে দেওয়া হয়নি। যখন যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, তখন তাদের দমন করতে হেলমেট ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আজকে যখন সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা শ্রমিকদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তখন পুলিশ বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করছে। গতকাল যে শিশুটি মারা গেছে, এটাকে আমরা মৃত্যু বলতে পারি না। এটা একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। আমরা শ্রমিকদের বিপক্ষে না। কিন্তু এধরনের অরাজকতা কোনও শ্রমিক করতে পারে না। নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে একটি মাফিয়া চক্র এ ধরনের অপকর্মগুলো করে যাচ্ছে।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন বলেন, দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে তারা চাইলে একজন যাত্রীকে লাঞ্চিত করতে পারে না ৷ গতকাল আমরা যে ধরনের দৃষ্টান্ত দেখতে পেয়েছি তা খুবই নৃশংস ৷ আমরা মনে করি, একজন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তারা আন্দোলন করতে পারে ৷ কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে না ৷ এ ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসাবে তীব্র নিন্দা জানাই ৷ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলমান রয়েছে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হচ্ছে। এ ধরনের কার্যকলাপ কারো থেকেই কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত, সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। তাদের এ ধর্মঘটে চলাকালে রবিবার শিক্ষার্থী ও রাস্তায় বের হওয়া গাড়িতে পোড়া মবিল লাগিয়ে দেন শ্রমিকরা। এছাড়া তাদের অবরোধে আটকা পড়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।