ঢাবি ক্যাম্পাসে ছিনতাই করতে গিয়ে আটক তিন শিক্ষার্থী, মামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিনতাই করতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানা মামলা করেছে ভুক্তভোগী। এ মামলায় আরও একজন পলাতক রয়েছে।
সোমবার রাতে টিএসসি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার তাদের আদালতে উপস্থিত করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের ছাত্র এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নাফিউর রহমান, ওই হলের ছাত্রলীগ কর্মী ও ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র কামরুল হাসান, দর্শন বিভাগের মিনহারুল বাশার আবির।
এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত দর্শন বিভাগের ছাত্র মো. জর্জ পলাতক রয়েছেন। সে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, ছিনতাইয়ের মামলার প্রেক্ষিতে ওই তিনজনকে মঙ্গলবার আদালতে চালান করে দেওয়া হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঠিকাদার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বায়তুল মোকাররম থেকে মগবাজারে অবস্থিত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে রমনা কালী মন্দিরের সামনে আসলে অভিযুক্তরা আমার পথ রোধ করে। এ সময় তারা আমার কাছ থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা এবং স্যামসাং জে-২ সিরিজের একটি মোবাইলফোন কেড়ে নেয়।’
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্তরা নানারকমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমাকে মারধর করে এবং গুম করার হুমকি দিয়ে রিক্সায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র সামনে আমি চিৎকার করি। পরে পুলিশ এসে আমাকে সাহায্য করে। সেখান থেকে পুলিশ তাদের তিন জনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। জর্জসহ অজ্ঞাতরা পালিয়ে যায়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যায় না। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছ’।
এ বিষয়ে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, কোন অপরাধীর ঠাঁই ছাত্রলীগে নাই। জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।