জবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের ছড়াছড়ি
অসংগতিপূর্ণ বাক্যগঠন আর অসংখ্য ভুল বানানে ভরপুর প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ইউনিট ‘৩’ এর ভর্তি পরীক্ষা। এতে শিক্ষার্থীদের যাচাই করার আগে প্রশ্নকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের নিজেদের আগে যাচাই করা উচিত বলে মনে করছেন ভর্তিচ্ছুদের অভিভাবকরা। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকাল ১০টায় জবির বাণিজ্য শাখার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৩০টির ও বেশি বানান ভুল এবং অসংগতিপূর্ণ বাক্য পাওয়া গেছে।
জবি বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. একেএম মাহবুবুল হক তার ফেসবুকের ওয়ালে লেখেন, এটি দেশের একটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যাতে মুদ্রণ ও ভাষাগত বিভ্রাট আছে কমপক্ষে ৩০টি !!! তদুপরি ছাত্র-ছাত্রীদের ভাষাজ্ঞান যাচাই করার জন্য শ্রম-বিভাজন, একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার ইত্যাদি ব্যবসায়-শিক্ষা সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং বাংলা-ইংরেজির জগাখিচুড়ি দিয়ে এক নিদারূণ রসিকতা করা হয়েছে এই প্রশ্নপত্রে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পরীক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান যাচাই করার আগে প্রশ্নকর্তার বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাষাজ্ঞান নিয়ে সন্দেহ ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
অভিভাবকরা জানান, প্রশ্নপত্রে এমন ভুল কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে আরো সচেতন হওয়া উচিত। ভর্তিচ্ছুরা বলেন, শিক্ষকরাই যদি ভুল করেন তবে আমরা শিখবো কার কাছে। তাছাড়া প্রশ্নপত্রে এত ভুল থাকলে পরীক্ষা দিতেও অসুবিধা হয়।
তবে প্রশ্নপত্রে ভূলের অভিযোগ অস্বিকার করেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আসলে যে ভুল ধরেছে তারই ভুল। আমরা এ প্রশ্নপত্রটা ২০ বার আমি যাচাই করেছি সেখানে ভুল খুঁজে পাইনি। এখন বানানে ‘ণ’ ও ‘ন’ বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে লিখে। এখানে ভুল বলার কোন কারণ নেই। আর এত ভুল খুঁজতে গিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক এনে প্রশ্ন ফাঁস করতে পারিনা।