১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩৩

চারদিন পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

মারধরের শিকার আসাদুজ্জামান আসাদ (বামে) এবং অভিযুক্ত সাইদুল (ডানে)  © টিডিসি ফটো

বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে অজ্ঞান করার চার দিন পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় নেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষ। অপরাধ করেও শাস্তি না পাওয়ায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে আরো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এদিকে প্রাণের ভয়ে হলের বাইরে থাকতে হচ্ছে নির্যাতিত শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদকে। আক্রান্ত আসাদুজ্জামান আসাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র।

বিজয় একাত্তর হল সূত্রে জানা যায়, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার কর্মসূচী পালন করে ছাত্রলীগ। বোনের শ্বশুর অসুস্থ থাকায় আসাদুজ্জামান আসাদ তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানান। এতে ছাত্রলীগের ওই দুইজন তার উপর চড়াও হন এবং গেস্টরুমে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

সারাদিন কর্মসূচী পালন করার পর বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় হলের নিচতলার গেস্টরুমে আসাদকে ডাকেন অভিযুক্ত হৃদয় ও সাইদুল। এসময় হৃদয় আগের দিন (মঙ্গলবার) গেস্টরুমে না থাকার অযুহাতে প্রথমে আসাদের পেটে ও কোমরে লাথি মারেন। বেধড়ক পিটুনিতে নিচে পড়ে যান আসাদ। এরপর অভিযুক্ত সাইদুল তার মাথায়, মুখে ও হাতে ঘুশি মারতে থাকেন। বেদড়ক পিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়ে পড়লে তাকে হলের মাঠে নিয়ে আসেন হৃদয় ও আসাদ। এসময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আসাদ। এই অবস্থায় তাকে মাঠে রেখেই পালিয়ে যায় হৃদয় ও সাইদুল। পরে রাত দু’টায় আসাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ শুক্রবার ‘দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’কে বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও টেনশনের কারণে আমি মঙ্গলবার গেস্টরুমে আসতে পারিনি। বুধবার প্রোগ্রামে গেলে তারা আমাকে আগের দিন গেস্টরুমে না আসার কারণ জিজ্ঞেস করে এবং রাতে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বুধবার রাতে তারা আমাকে গেস্টরুমে ডাকে এবং আমার বাবা-মা নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে। এক পর্যায়ে হৃদয় ও সাইদুল আমার মুখ, ঘাড়ে ও মাথায় বেপরোয়াভাবে লাথি ও কিল ঘুষি দেয়। পরে আমাকে হলের মাঠে নিয়ে আসলে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই।

ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের বিষয়ে বিচার চেয়ে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মারধরকারীদের ভয়ে হলের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় থাকছেন। আর অভিযুক্ত হৃদয় ও সাইদুল বহাল তবিয়তে হলেই আছেন বলে জানা যায়।

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ. জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া এ বিষয়ে বলেন, ওই শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অপরাধকারীদের কোন মাফ নাই। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। হল প্রশাসনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে কল দিলেও তিনি কল ধরেননি।