ঢাবির হলে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থী মারধর
ফোন রিসিভ না করা ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি হলে ছাত্রলীগ কর্তৃক দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও স্যার এফ রহমান হলে এসব ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের হাসান আল মানজুর ও স্যার এফ. রহমান হলের নুরুল আফসার। তারা উভয়ই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। মারধরকারীরা হলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী শাহ ইবনে সোয়াদ ও এফ. রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মোহাম্মদ রাকিব। তারা উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারী বলে জানা গেছে।
মুহসীন হলসূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম শেষে হলে ফিরে এসে মোবাইল রুমে রেখে গোসল করতে ওয়াশরুমে যান ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান আল মানজুর। এসময় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহ ইবনে সোয়াদ তাকে ফোন করেন। কিন্তু ওয়াশরুমে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারে নি মানজুর। মোবাইল না ধরায় শাহ ইবনে সোয়াদ ক্ষিপ্ত হয়ে তার রুমে এসে তাকে গালিগালাজ করে এবং তৎক্ষণাৎ হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন । এরপরও মানজুর হলে অবস্থান করায় রাত সাড়ে ১০টায় সোয়াদ তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হল থেকে বেরিয়ে যেতে চাপ দেয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনুনয় করা সত্ত্বেও তাকে গালিগালাজ করতে থাকে সোয়াদ।
মারধরের শিকার হাসান আল মানজুর বলেন, গালাগালির এক পর্যায়ে মারতে স্ট্যাম্প নিয়ে তেড়ে আসে এবং বেপরোয়াভাবে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ মারধরকারী শাহ ইবনে সোয়াদকে হল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনা তদন্তে হল প্রশাসন থেকে হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, অন্য দুজন সদস্য হলেন ইমাউল হক সরকার ও এ কে এম ইফতেখারুল ইসলাম।
এ বিষয়ে মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ ড.নিজামুল হক ভুঁইয়া জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য আমরা কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলে বুধবার রাতে নুরুল আফসার শিক্ষার্থী ফেসবুকে গণরুম নিয়ে একটি সংবাদের লিংক শেয়ার দেয়। এতে রাগান্বিত হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ রাকিব তাকে গেস্টরুমে ডাকেন। সে গেস্টরুমে গেলে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারনে গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে তার বুকে আঘাত করে রাকিব।
জানতে চাইলে মারধরকারী রাকিব বলেন, সে সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় তাকে বকাঝকা করা হয়েছিল, মারধর করা হয়নি। আমি তাকে কাঠ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে পিছনে সরিয়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম জানান, আমি কিছুক্ষণ আগে ঘটনা সম্পর্কে অবগত হলাম। আমি হাউজ টিউটরদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করব। এরপর তারা আমাকে জানালে আমি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারব।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও আমরা জানিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কাউকে মারার অধিকার রাখে না।
এ দিকে আজ দুপুরে মারধরের শিকার ঐ দুই শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী এ বিষয়ে জানান, আমি তাদের অভিযোগপত্র পেয়েছি। ঘটনা যেহেতু হলে ঘটেছে তাই হল কর্তৃপক্ষের মাধ্যেম তদন্ত কমিটি করে আমরা তদন্ত কাজ চালাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে ঘটনার বিচার করা হবে।