০৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৩

সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে অপরিকল্পিত ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ  © সংগৃহীত

ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরিকল্পিত ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও লেখাপড়ার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা তা সতর্কভাবে দেখতে হবে শিক্ষকদের। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবনের জন্য নতুন নতুন বিষয় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। তবে তা কোনো ব্যক্তি স্বার্থে না হয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বমানের মানব সম্পদ তৈরির জন্য নতুন চিন্তা-গবেষণা ও উদ্ভাবনীতে আত্মনিয়োগ করা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ। যদিও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হয়েছে। তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তাই দেশের দ্রুত উন্নয়নেও তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তবে এই সংযোজন, বিয়োজন বা সম্প্রসারণ কোনটাই যেন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কতিপয় লোকের স্বার্থে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন ঢাবি চ্যান্সেলর।

এদিকে, ক্যাম্পাসে সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কালো গাউন ও হ্যাট পরে ফ্রেমবন্দি হচ্ছেন। সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়কে সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে। ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা রঙের বেলুনে রঙিন হয়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ঐতিহাসিক কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কলাভবন, বটতলা ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।

এবারের সমাবর্তনে ঢাবি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যুতে মোট ২১ হাজার ১১১জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৬টি স্বর্ণপদক, ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এম ফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়।