‘গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরকে ঢাবিতে আসতে দেয়া যাবে না’
গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ খোকনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মরণ সভায় লিয়াকত শিকদার বলেন, আব্দুল ওয়াদুদ খোকনের মতো ত্যাগী নেতা এখন বিরল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ২০০১ সালের পরেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আব্দুল ওয়াদুদ খোকনকে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আজকে কোনো গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির জঙ্গিদেরেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে দেয়া যাবে না। এই মাটি মুক্তিযোদ্ধার ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। কোনো ষড়যন্ত্রকারীদের এই মাটিতে স্থান হবে না। আাগামীদিনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা শপথ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে যাব।
তিনি আরও বলেন, আব্দুল ওয়াদুদ খোকন এমন সময় নেতৃত্ব দিয়েছে যখন ১৯৯১ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় চলে আসে। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রতদলের নির্মম নির্যাতন শুরু হয়েছিল। মনিরুজ্জামান বাদলকে হত্যার পর অভ্যন্তরীণ সংকট শুরু হয়েছিল। তখন ছাত্রলীগের মিছিল এত ছোট হয়ে গিয়েছিল তা আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল থেকে আমাদের বের করে দেয়া হয়েছিল। সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলেও আমরা থাকতে পারিনি। আমরা সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোথাও থাকার জায়গা পাইনি। সূর্যসেন হলে একটি কক্ষে আমরা ১০-১২জন থাকতাম। কখনও এমন রাত ছিল কোথাও থাকার জায়গা নেই, চৌকির নিচে আমি আর খোকন ঘুমিয়ে থাকতাম। চানখার পুলে গিয়ে খাবার ভাগ করে খেতাম। কোনোদিন ভাত-মাছ জুটত না। শুধু ডাল দিয়ে খেয়ে চলে আসতাম। এই ছিল সেদিনকার বাস্তবতা।
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, খোকনের আত্মত্যাগ একটি কারণে। সেটি হলো বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শে সমুন্নত রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। আপনার আমার দাবি একটি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মাধ্যমে নির্মাণ করবেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।