দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: সার্টিফিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ‘জ্ঞান’
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক খারাপ। বলা হচ্ছে-সার্টিফিকেট নাও, কিন্তু জ্ঞান নিতে পারবে না। সার্টিফিকেটের মাধ্যমে জ্ঞানটাকে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দুইশ বছরের ইংরেজ শাসনই এ জন্য দায়ী। তারাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়ে গেছে। এজন্য সংগ্রাম ও নৈতিক চেতনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উচ্চতর মানববিদ্যা গবেষণা কেন্দ্রে সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্ট্যাডিজ স্পেশাল ইস্যু ‘ইমেজিং সাউথ এশিয়ান কালচার ইন নন-ইংলিশ: রিকনস্ট্রাকিং পপুলার টেক্সুয়াল এন্ড ভিজুয়াল রিপ্রেসেন্টেশনস’ শীর্ষক প্রবন্ধের লাঞ্চিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আবু রায়হান বিরুনী ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক আরও বলেন, বিজ্ঞানের কল্যানে মানুষ ভালভাবে বসাবস করতে পারছে। কিন্তু টেকনলজি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। পৃথিবীর শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জার্মানী, রাশিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকার সাথে দুর্বল রাষ্ট্রের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে দুর্বল রাষ্ট্রকে উন্নত হতে দিচ্ছে না। এর ফলে দুর্বলরা তাদের অধিকার আদায় করতে পারছে না। এজন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায় করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে মানুষের বৈষম্য বাড়ছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রের মধ্যে দুর্বল রাষ্ট্রের বৈষম্য বাড়ছে। অল্পকিছু রাষ্ট্র দুনিয়াব্যাপী দুর্বল রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে উন্নত হতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশেও এই ব্যবস্থা প্রবাল আকার ধারণ করেছে। দুর্বলরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। এজন্য জনগণের সংগ্রাম ও নৈতিক চেতনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানের ওয়াজদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ঢাবির ভিজিটিং অধ্যাপক কাজেম খাঁদুয়ী বলেন, ইরানের ঐতিহ্যের সাথে বাংলাদেশের একটা ঐক্য আছে। সাংস্কৃতিক দিক থেকে একটা মিল আছে। এই মিল অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের তৃতীয় বিশ্বের লোক বলা হয়। এটা একটা অপমান। আমরা প্রথম বিশ্বে যেতে চাই। এজন্য আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন দরকার।
আবু রায়হান বিরুনী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ঢাবির ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু মুসা মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাউথ এশিয়ান কালচারাল স্ট্যাডিজের এডিটর ইন চিফ তসলীম শাকুর।