জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা হল ছাড়েননি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া মহিউদ্দিন রানা এখনও হলেই অবস্থান করছেন। রানা নিজে হলে থাকেন বলে স্বীকার করলেও হল প্রশাসন বলছেন তারা কিছুই জানেন না।
ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত এ ছাত্রলীগ নেতা এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে থাকছেন। মাঝেমধ্যে তিনি মধুর ক্যন্টিনেও আসেন ছাত্রলীগের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে। অভিযোগ আছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল ফাত্তাহ তুহিনের ছত্রছায়ায় তিনি এখনও হলে অবস্থান করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের সম্মিলিত ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার আগের দিন ২০ অক্টোবর রাতে পুলিশ ঢাবি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রানাকে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ডিভাইসসহ আটক করে। ওই সময় তার সঙ্গে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুনকেও আটক করা হয়। সেই সময়ের ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ডিভাইসসহ আটক শিক্ষার্থীরা ছিল ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড।
মহিউদ্দিন রানাকে আটকের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে আদালতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হয় শহীদুল্লাহ হলের এই শিক্ষার্থীকে। পরে জামিনে বের হয়ে এসে মহিউদ্দিন রানা আবারও ঢাবির আবাসিক হলে ওঠেন।
জানা গেছে, স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া সেই মহিউদ্দিন রানা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের প্রধান আবাসিক ভবনের ২২৪ নম্বর রুমে অবস্থান করছেন।
সূত্র জানায়, শহীদুল্লাহ হলের যে ২২৪ নম্বর রুমে রানা অবস্থান করছেন, সেটি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল ফাত্তাহ তুহিনের রুম। বহিষ্কৃত ভর্তি জালিয়াত চক্রকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল ফাত্তাহ তুহিন বলেন, ‘আমি হলে রাখছি— বিষয়টি এমন না। ও আমার সঙ্গে রাজনীতি করত। তাই মাঝেমধ্যে আমার সঙ্গে রুমে থাকেন।’
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কৃত এবং জালিয়াত চক্রের সদস্য হিসেবে আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়া একজনকে কিভাবে হলে রাখছেন— এমন প্রশ্নের উত্তরে তুহিন বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। সে কারণেই আমার কাছে এলে চলে যেতে বলতে পারি না। এর বাইরে কিছু নয়।’
আত্মস্বীকৃত একজন জালিয়াতকে হলে রাখা হচ্ছে— সে বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘তাকে (রানা) হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আবার কারা যেন তাকে হলে তুলেছে। তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই।’ বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, বহিষ্কৃত বা বহিরাগত কারোরই হলে থাকার সুযোগ নেই। হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।