খুনি পুনর্বাসনকারীদের সাথে সংলাপ নয়: ওবায়দুল কাদের
পলাশী যড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি হয়েছে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে। যারা আজ গণতন্ত্রের কথা বলে কান্নাকাটি করছেন তারা কি ভুলে গেছেন আমাদের ইতিহাস। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করলো, তাদের সাথে কোন সংলাপ চলে না। তারা কারা? তিনি কে? বলুন আপনারা। হত্যা করা আর হত্যাকারীকে সাহায্য করা কি সমান অপরাধ নয়?
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সাথে সংলাপ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন।
বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা করেছে তারা কারা? তাদের সাথে মুখোমুখি বসে, চোখে চোখ রেখে কথা কিভাবে বলব? তারা কি সে পরিবেশ রেখেছে? সন্তান হারা মাকে দেখতে গিয়েছিলেন ২১ আগস্টের প্রধান টার্গেট। কিন্তু তিনি দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন।’
‘সেদিনই সংলাপের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এদের সাথে কি সংলাপ করার পরিবেশ আমরা পাবো? ২০১৪ সালে নির্বাচনকে সামনে রেখে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত বঙ্গবন্ধু কন্যা বেগম খালেদা জিয়াকে গণ ভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েন, কিন্তু ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কি রকম অশালীন বাক্য এসেছিলো। তাদের সাথে কিভাবে সংলাপ সম্ভব”, প্রশ্ন রাখেন ওবায়দুল কাদের।
‘জাতির পিতার মৃত্যু দিবসে যারা ভুয়া জন্মদিবস পালন করে তাদের সাথে সংলাপ নয়। জাতির পিতার মৃত্যু দিবসে তারা ভুয়া জন্মদিবস পালনের জন্য যদি ক্ষমা না চায় তাহলে তাদের সাথে সংলাপের প্রশ্নই আসে না।’
আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি বলেন, ‘১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের সাথে যারা জড়িত আজ তাদের খুজে বের করার সময় এসেছে। তাদের খুজে বের করার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। আজ বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শ অনুযায়ী আমাদের দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। সে কাজটি করে যাচ্ছেন তার সুযোগ্য কন্যা।’
বাংলাদেশ সরকারের সচীব বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরল মনে এদেশের মানুষদের বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন পাকিস্তানিরা আমার কিছু করতে পারেনি, সুতরাং বাঙালীরাও আমার কিছু করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পিছনে ছিল পাকিস্তান ও তাদের দোষরদের ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধুর হত্যর খবর বাঙালীরা জানার আগে পাকিস্তান জেনেছিলো। আজ এ দেশকে সুখি ও সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তুলতে শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আর ছাত্রলীগকেও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে।’
ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘নেত্রী আমাদের উপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও রক্ষা করব। আগস্ট শোকের মাস, এদিনে আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবো।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামীলীগেরর উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ূয়া সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।